রান খুব বড় না হলেও চাপে পড়া মুহূর্তে তার ধৈর্যশীল ব্যাটিং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্পিন আক্রমণে যখন প্রতিপক্ষ চাপ তৈরি করছিল, তখন বামহাতি ব্যাটার পারভেজ হোসে ইমন পরিস্থিতি সামাল দেন। শেষ পর্যন্ত রাইলি মেরেডিথের বলে ক্যাচ আউট হন তিনি। লাহোরের ইনিংসে ৮৪ থেকে ৯৪ রানের মধ্যে দ্রুত তিন উইকেট পড়ে গেলে চাপে পড়ে দলটি। এমন অবস্থায় হাসিবউল্লাহর সঙ্গে ৩০ বলে ৩৭ রানের জুটি গড়ে তোলেন ইমন, যা পরে দলের ম্যানেজমেন্টের প্রশংসা পায়। ম্যাচ শেষে কালান্দার্সের মালিক ও টিম ডিরেক্টর সামিন রানা ইমনের ইনিংসের প্রশংসা করে বলেন, ‘ইমন, ভালো অভিষেক। দারুণ করেছ। আমি আগেও বলেছি, কত রান করেছ বা কত ছক্কা–চার মেরেছ, সেটি বড় বিষয় নয়। ওই পরিস্থিতিতে তুমি চাপ খুব ভালোভাবে সামলেছ এবং দলকে একটি প্রয়োজনীয় জুটি এনে দিয়েছ। তুমি নিজের স্বাভাবিক খেলার বাইরে গিয়ে দলীয় প্রয়োজনে খেলেছ। এ জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’ বল হাতে মোস্তাফিজও ছিলেন দুর্দান্ত। চার ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। পাশাপাশি তার বোলিং থেকেই আসে একটি রানআউট। তার বোলিংয়ে কোনো বাউন্ডারি তুলতে পারেনি প্রতিপক্ষ। মোস্তাফিজকে প্রশংসা করে রানা বলেন, ‘আমাদের চ্যাম্পিয়ন সম্পর্কে আর কী বলব? ফিজ দারুণ করেছ।’ পাকিস্তান সুপার লিগে খেলতে নেমে ম্যাচের প্রথম ভাগে ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি পারভেজ হোসেন। পরে বোলিংয়ে আলো ছড়ান মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের এই দুই ক্রিকেটারের দুই রকম অভিজ্ঞতার দিনে বিশাল জয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করে তাদের দল লাহোর কালান্দার্স। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নতুন আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে নবাগত হায়দরাবাদ কিংসমেনের বিপক্ষে শিরোপাধারীদের জয় ৬৯ রানে। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে ফখর জামানের ফিফটি (৫৩) ও কয়েকটি ক্যামিও ইনিংসে ১৯৯ রানের পুঁজি গড়ে শাহিন শাহ আফ্রিদির দল। জবাবে কিংসমেন শেষ বলে অলআউট হয় ১৩০ রানে। আঁটসাঁট বোলিংয়ে চার ওভারে ১৯ রানে একটি উইকেট নেন মোস্তাফিজ। বাঁহাতি এই পেসার ‘ডট’ বল খেলান ৯টি, হজম করেননি কোনো বাউন্ডারি। পিএসএল অভিষেকে পারভেজ একটি ছক্কায় ১৩ বলে করেন ১৪ রান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বোলিং পান মোস্তাফিজ। তার আগেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে কিংসমেন। ওই ওভারে একটি ওয়াইডসহ মোস্তাফিজ দেন কেবল চার রান। স্লোয়ার, কাটারের মিশেলে বেঁধে রাখেন দুই ব্যাটার মার্নাস লাবুশেন ও কুসাল পেরেরাকে। মোস্তাফিজের পরের ওভারে প্রথম পাঁচ বলে আসে পাঁচটি সিঙ্গল। শেষ বলে স্লোয়ারে লং–অনে ধরা পড়েন ইরফান খান। ১০৭ রানের মধ্যে ৯ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় কিংসমেন। অষ্টাদশ ওভারে বোলিংয়ে ফেরানো হয় মোস্তাফিজকে। এই ওভারে তিনি দেন তিনটি সিঙ্গল। ইনিংসের শেষ ওভারে ৭ রান দেন মোস্তাফিজ। শেষ বলে রান আউট হন মোহাম্মাদ আলি। অধিনায়ক লাবুশেনের ২৬ ছাড়া কিংসমেনের আর কেউ ২০ ছাড়াতে পারেননি। কালান্দার্সের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন উবাইদ শাহ, হারিস রউফ ও সিকান্দার রাজা। ম্যাচ–সেরার স্বীকৃতি পান ফখর। এমনিতে ওপেনার হলেও চার নম্বরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান পারভেজ। তিনি ক্রিজে যাওয়ার আগে–পরে ১৩ বল আর ১০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল। বিনা উইকেটে ৮৪ থেকে তাদের স্কোর হয়ে যায় ৩ উইকেটে ৯৪। শুরুতে সাবধানী ছিলেন পারভেজ। প্রথম ১১ বলে তার রান ছিল ৮। এরপর বোলার মার্নাস লাবুশেনের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে প্রথম বাউন্ডারির দেখা পান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পরের ওভারে, পরের বলেই আউট হয়ে যান তিনি। পেসার রাইলি মেরেডিথের শর্ট বল পুল করার চেষ্টায় টাইমিং করতে পারেননি, ক্যাচ উঠে যায় লং–অনে।












