পিএইচপির আরো ৫ কোটি টাকা অনুদান

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার আগের ৫ কোটি টাকা অর্থায়নে নির্মিত পিএইচপি ফ্যামিলি ফ্লোর উদ্বোধন

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ৭ মার্চ, ২০২৪ at ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের জন্য পাঁচ কোটি টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান, একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজসেবক সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। এর আগে তিনি মা ও শিশু হাসপাতালের পঞ্চাশ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোরের জন্য ৫ কোটি টাকা এবং একটি লিফট প্রদান করেছিলেন। গতকাল বুধবার নতুন ভবনের ৭ম তলায় পিএইচপি ফ্যামিলির অর্থায়নে নির্মিত পিএইচপি ফ্যামিলি ফ্লোর উদ্বোধনকালে তিনি ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য ৫ কোটি টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন।

গতকাল সকালে পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান তার পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে ফ্লোর উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে হাসপাতালের লেকচার গ্যালারিতে কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারী মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। অনুষ্ঠানে দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের সহধর্মিনী তাহমিনা রহমান, পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মহসিন, পরিচালক আকতার পারভেজ, মুহাম্মদ আলী হোসাইন, মুহাম্মদ আমির হোসাইন, সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের কন্যা ফাতেমা জাহারা, হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারী সৈয়দ আজিজ নাজিমউদ্দিন, অর্গানাইজিং সেক্রেটারী মোহাম্মদ সাগির, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. আলমগীর পারভেজ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, মা ও শিশু হাসপাতাল চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণের হাসপাতাল। এই হাসপাতালের সাথে পিএইচপি পরিবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তিনি এই হাসপাতালের সাথে পিএইচপি পরিবারকে কাজ করার সুযোগ দানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতেও পিএইচপি পরিবার এই হাসপাতালের সাথে কাজ করবে বলে উল্লেখ করে সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এই হাসপাতালে গড়ে তোলা ক্যান্সার হাসপাতালসহ পুরো হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। তিনি হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদ, সকল কর্মকর্তা কর্মচারী ও এই হাসপাতালের উন্নয়নে যারা অবদান রেখেছেন তাদের সবার প্রতি পিএইচপি পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিনি মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ এবং নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে নিজের জীবন কাহিনী শোনান। তিনি বলেন, মাত্র ১শ’ টাকায় জীবন শুরু করে আজ আমি এখানে। স্বপ্ন থাকতে হবে। বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। জীবনে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষের জন্য সাধ্যানুযায়ী অকাতরে দান করতে হবে। তিনি পবিত্র কোরান শরীফের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, দানের প্রতিদান যে মহান আল্লাহ বেশুমার দেন তার প্রমাণ আমি নিজেই। ১শ’ টাকার জীবন শুরু করা সেই আমি আজ পিএইচপি ফ্যামিলি গড়েছি।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে যে শক্তি দিয়েছেন তাকে কাজে লাগাতে হবে। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদেরকে আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।

সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান সামর্থ অনুযায়ী গরীব মানুষকে দান করার উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রতিদিন এক টাকা হলেও আল্লাহর ওয়াস্তে অভাবী মানুষকে দান করবেন। প্রতিদিন না পারলে সপ্তাহে, সপ্তাহে না পারলে ১৫ দিনে, ১৫ দিনে না পারলে এক মাসে হলেও এক টাকা দান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যদি তাও না পারেন তবে আল্লাহকে বলেন যে, আমার কাছে থাকলেও তো দান করতাম। নেই বলে করতে পারছি না। দেখবেন, আল্লাহ আপনাকে দুহাত ভরিয়ে দেবে।

বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ক্যান্সার ইনিস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান এম এ মালেক বলেন, জনগণের অর্থায়নে আমরা ক্যান্সার হাসপাতাল চালু করেছি। চট্টগ্রামের মানুষ এখন স্বল্প খরচে এখানে রেডিওথেরাপিসহ ক্যান্সারের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পাবে। ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য এখন রোগীদের চট্টগ্রামের বাইরে যেতে হবে না। তিনি আরো বলেন, এই ক্যান্সার হাসপাতাল চালু করার জন্য আমাদেরকে বিরাট অংকের লোন করতে হয়েছে। এই লোনের টাকা পরিশোধ হয়ে গেলে এখানে আরো সাশ্রয়ী মূল্যে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারবো। তিনি এ ব্যাপারে সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ক্যান্সার সেন্টারের জন্যও ৫ কোটি টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, পিএইচপি ফ্যামিলি মা ও শিশু হাসপাতালের যে কোনো ভালো উদ্যোগের সাথে থাকবে।

উল্লেখ্য, পিএইচপি ফ্যামিলি ইতোপূর্বে নতুন হাসপাতাল ভবনের জন্য ৫ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেছেন এবং হাসপাতালের ৭ম তলায় একটি ফ্লোর পিএইচপি ফ্যামিলির নামে নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন ভবনের জন্য পিএইচপি ফ্যামিলি একটি লিফটও প্রদান করেছেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পিএইচপি ফ্যামিলির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, ডাইরেক্টর মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক, মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. ফজল করিম বাবুল, মো. হারুন ইউসুফ, এ এস এম জাফর, মেডিকেল কলেজের অ্যাডভাইজার প্রফেসর এ এস এম মোস্তাক আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল প্রফেসর অসীম কুমার বড়ুয়া, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক, উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন, উপপরিচালক (মেডিকেল অ্যাফেয়ার্স) ডা. এ কে এম আশরাফুল করিম, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, শিক্ষকশিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরমজানে বাজার মনিটরিং করবে চসিক প্রয়োজনে বিশেষ অভিযান
পরবর্তী নিবন্ধএটি শুধু ভাষণ নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্রও