রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে একটি ইটভাটার জন্য পাহাড় কাটার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শতবর্ষী একটি প্রাচীন কবরস্থান। প্রশাসনের নিয়ম–নীতি তোয়াক্কা না করে এবং স্থানীয়দের প্রবল বাধা উপেক্ষা করে কবরস্থানের সীমানা ঘেঁষে গভীর গর্ত করে মাটি তুলে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে যেকোনো সময় পুরো কবরস্থানটি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের শায়ের মোহাম্মদ ও নেজামশাহ পাড়া এলাকায় অবস্থিত এই কবরস্থানটি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত আবেগ ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। অভিযোগ উঠেছে, পাশের একটি ব্রিক ফিল্ডে (ইটভাটা) মাটি সরবরাহের জন্য কবরস্থানের একেবারে কোল ঘেঁষে পাহাড় ও মাটির স্তর কেটে নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বেপরোয়াভাবে মাটি কাটার ফলে ইতোমধ্যে কবরস্থানের পাশের পাহাড়ে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বারবার কাজ বন্ধের দাবি জানালেও ইটভাটার মালিক তা উপেক্ষা করে খননকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সামনে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের মাটি ধসে পুরো কবরস্থানটি বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও ইটভাটার মালিক আমাদের কথা শুনছেন না। এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে বর্ষার আগেই আমাদের বাপ–দাদার কবরগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
কবরস্থানটি রক্ষা এবং অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে স্থানীয়রা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, পাহাড় বা মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। যারা এই অপকর্মে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন–২০১০ অনুযায়ী এই অপরাধের জন্য জড়িতদের সর্বোচ্চ জরিমানা এবং প্রয়োজনে কারাদণ্ড দেওয়া হবে।









