পাহাড়ে প্রতিবন্ধীদের স্বপ্ন পূরণের সাথী কিশোর

নিজে প্রতিবন্ধী হয়েও প্রতিষ্ঠা করলেন আশ্রয়কেন্দ্র

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | শনিবার , ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

প্রতিবন্ধীদের বন্ধু কিশোর চাকমা। ২০১৮ সালে পাহাড়ে প্রতিবন্ধীদের স্বপ্ন পূরণে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। খাগড়াছড়ি সদরের কমলছড়ি ইউনিয়নের বেতছড়িমুখে স্বপ্ন প্রতিবন্ধী নামে একটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। নিজে প্রতিবন্ধী হয়েও অদম্য প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধীদের আশ্রয় হয়ে উঠেছেন তিনি।

শুরুতে তিনজন প্রতিবন্ধী নিয়ে এই আশ্রয় কেন্দ্রটি চালু করা হলেও বর্তমানে রয়েছে ২৩ জন প্রতিবন্ধী। কিশোর চাকমা তাদের জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি রেখেছেন কম্পিউটার, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন মৌলিক প্রশিক্ষণ। তবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে বর্তমানে বন্ধ রাখতে হয়েছে প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো।

শারীরিক প্রতিবন্ধী চিত্তিময় চাকমা বলেন, আমি ঠিকমতো স্বাভাবিক মানুষের মত চলাফেরা করতে পারি না। আমাকে কেউ কাজেও নিচ্ছে না। তবে এখানে আসার পর আমি লিখতে পারি। কম্পিউটারে টাইপ করা শিখছি। এখানে আমার মত আরো অনেকে আছে তারা পড়তে ও লিখতে পারে।

রিমি চাকমা জানান, ছোট বেলায় তার বাবা মারা গেলে একমাত্র আশ্রয় হয় স্বপ্ন প্রতিবন্ধী আশ্রয় কেন্দ্র। বর্তমানে সে দশম শ্রেণীতে পড়ে। ‘পড়ালেখার পাশাপাশি সরকার যদি কোন মৌলিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে আমরা যারা অসহায় এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী আমাদের স্বপ্ন পূরণ হত এবং আমরা আত্মনির্ভরশীলতা ফিরে পেতাম।’

স্বপ্ন প্রতিবন্ধী আশ্রয় কেন্দ্রের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রতিবন্ধী কিশোর চাকমা বলেন, দুর্ঘটনায় আমার মেরুদণ্ড ভেঙে গেলে চিকিৎসা নিয়ে ব্যর্থ হই। পাহাড়ে আমার মত যারা অবহেলিত প্রতিবন্ধী রয়েছে, তাদেরকে নিয়ে কাজ করার জন্য এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে স্বপ্ন প্রতিবন্ধী আশ্রয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করি। ২০১৮ সালে আমরা তিন বন্ধু মিলে এই আশ্রয় কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করি। যার মূল লক্ষ্য প্রতিবন্ধীদের সুশিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল করা। তবে বর্তমানে আমাদের এই আশ্রয় কেন্দ্রে আবাসন সংকট, খাওয়ার সংকট রয়েছে। আমাদের স্বপ্ন প্রতিবন্ধী আশ্রয় কেন্দ্রে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ, মোমবাতি বানানো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে তারা আত্মনির্ভরশীল হতো। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা (অতি.) কনসালটেন্ট ফিজিওথেরাপি ডা. উক্রাচিং মারমা জানান, আমাদের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র মূলত শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিনামূল্যে সব উপকরণ বিতরণ, তত্ত্বাবধান এবং পুর্নবাসনের জন্য কাজ করে থাকে। এছাড়া আর্থিক সহায়তার জন্য আমাদের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সাথে যোগাযোগ করে নিয়ম অনুযায়ী শর্ত পূরণ করে আর্থিক অনুদানের জন্য আমরা সহায়তা করতে পারি। এবং সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন বরাবর ও সমাজ সেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে শর্তপূরণ করে আবেদনের মাধ্যমে সহায়তা পেতে পারেন।

এদিকে স্বপ্ন প্রতিবন্ধী আশ্রয় কেন্দ্রের পাশের থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। তিনি বলেন, স্বপ্ন প্রতিবন্ধী আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা প্রতিবন্ধীদের স্বপ্ন পূরণের জন্য যেসব প্রশিক্ষণের দরকার জেলা পরিষদ সেসব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপাখি সব করে রব
পরবর্তী নিবন্ধপদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা