পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, উগ্র–বাঙালি জাতীয়তাবাদের কারণে আমাদের জুম্ম জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। তাই আমাদেরকে আর যেন বাধ্য করা না হয়। আমরা চাই না আর নতুন করে রক্ত ঝরুক এই পাহাড়ে। আমাদেরকে (পাহাড়িদের) এক্সক্লুসিভভাবে ভাবনা করবেন না, ইনক্লুসিভভাবে ভাবতে চেষ্টা করুন। আমরা সংখ্যায় কম হতে পারি, দুর্বল হতে পারি; কিন্তু আমরাও মানুষ, আমরাও বাংলাদেশের নাগরিক। সম–অধিকার, সম–মর্যাদা নিয়ে মানুষের মতো মানুষের অধিকার নিয়ে আমাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে।
গতকাল রোববার দুপুরে রাঙামাটি জেলা শহরের নিউ মার্কেট এলাকার একটি হলরুমে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিভেদপন্থী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করুন; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষে বৃহত্তর আন্দোলন সামিল হোন’ এ স্লোগানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ঊষাতন তালুকদার বলেন, ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব দীর্ঘদিন ইউরোপে থাকাকালীন সময়ের পর উনার বোধহয় এখন পরিপক্কতা এসেছে। আমাদের বিষয়গুলো উনার বোঝার সক্ষমতা এসেছে বলে আমাদের ধারণা। তবে এই অর্থ নয় যে আমরা জনগণকে বিভ্রান্ত করে ধানের শীষে ভোট দিতে বলেছি। জেএসএস কোনো দিন জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেনি এবং সামনেও করবে না।তিনি আরও বলেন, জাতিগত, সম্প্রদায়গত, নির্যাতন–নিপীড়ন তথা বৈষম্য ও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসংহতি সমিতির জন্ম। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি হলো শোষিত, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের পার্টি।
আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি গঙ্গা মানিক চাকমার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন– বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এমএন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তিবিজয় চাকমা, মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশিকা চাকমা প্রমুখ।











