চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী। তিনি লাটিম প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আজাদীর পক্ষ থেকে নির্বাচন ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আগামী ২৭ জানুয়াারি নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে নির্বাচিত হলে এই ওয়ার্ডকে আমি মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ মুক্ত পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব। গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডের মানুষ খুবই সচেতন। দীর্ঘদিন পরে এলাকাবাসী একজন তরুণ পরিচ্ছন্ন জনপ্রতিনিধি চেয়েছেন। তারা আমাকে পেয়ে বিজয়ী করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আগামী ২৭ জানুয়াারি তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আমাকে জয়ী করবেন আমি সেটা প্রত্যাশা করি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীর মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করব। এলাকাকে মাদক মুক্ত করব। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করব।
আজাদী : কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীর জন্য কী কী করবেন?
মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী : নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার পরিকল্পনা আছে। ওয়ার্ডে মুরগী ফার্ম থেকে জালালাবাদ পর্যন্ত কোনো স্কুল নেই। এই এলাকায় ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত একটি স্কুল করব এবং এলাকার গর্ভবতী মায়েদের জন্য একটি মাতৃসদন করব।
আজাদী : মাদকের বিরুদ্ধে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?
মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী : এই এলাকায় মাদকের সমস্যা প্রকট। আমি নির্বাচিত হয়ে মাদক নির্মূলের বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেব। মাদক নির্মূলের পাশাপাশি চাঁদাবাজি-জুয়া-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করব। এলাকার তরুণ সমাজ যাতে মাদকের জোয়ারে গা না ভাসায়। তাদের মেধাকে সমাজ ও রাষ্ট্রের কাজে লাগানোর জন্য তাদেরকে উদ্ধুদ্ধ করব।
আজাদী : আপনার এলাকায় প্রধান সমস্যা কী বলে মনে করেন, নির্বাচিত হলে কিভাবে সমাধান করবেন?
মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী : এই ওয়ার্ডে ভাসমান মানুষের সংখ্যা বেশি। তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব। এছাড়া এলাকায় সুপেয় পানির সমস্যা আছে। এলাকাবাসীকে জিম্মি করে একটি সিন্ডিকেট পানির ব্যবসা করে। মানুষের জীবনকে জিম্মি করে যারা পানির ব্যবসা করে তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এলাকাবাসীর জন্য সুপেয় পানি এবং বিদ্যুতের সুব্যবস্থা করব। এছাড়া এলাকায় পূর্বের বেশ কয়েকটি গ্যাং আছে। এদের হাতে এলাকার মানুষ মারাত্মকভাবে অত্যাচারিত হয়। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা নিরসন করব। একটি আলোকিত সমাজ গঠনের জন্য যা যা করা দরকার সবই করব।
আজাদী : নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আপনি কতটুকু সন্তুষ্ট?
মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী : নির্বাচনী পরিবেশ এখনো মোটামুটি ভালো আছে। বিএনপি ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মিলে যৌথভাবে কৌশল করছে পরিবেশ খারাপ করার জন্য। তবে এলাকাবাসী এই নির্বাচন নিয়ে খুবই সচেতন। তারা একজন দক্ষ জনপ্রতিনিধি চান- যিনি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে এলাকাবাসীর জন্য কিছু করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তারা আমাকে বেছে নিয়েছেন। তারা বুঝতে পেরেছেন আমি তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারব।
আজাদী : নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে প্রথম পদক্ষেপ কী হবে?
মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী : মাদকের ভয়াবহতা থেকে এই ওয়ার্ডের তরুণ যুবকদের রক্ষা করব। এখানে সমস্যা অনেক, গুরুত্ব বিবেচনা করে একেকটি সমস্যার সমাধান করা হবে। এই ওয়ার্ডে ভাসমান মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। বস্তির সংখ্যাও বেশি। ভাসমান লোকজনকে পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব। তাদেরকে পুনর্বাসনের পাশাপাশি এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করব। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাতৃসদন করব।
আজাদী : জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?
মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী : সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় নিয়ে আমি নির্বাচিত হব, ইনশাআল্লাহ। এলাকার ভোটাররা একজন পরিচ্ছন্ন-দক্ষ-তরুণ জনপ্রতিনিধি চান। তারা আমাকে খুব আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেছেন।












