খাগড়াছড়ির সমতল ভূমির পাশাপাশি পাহাড়ের ঢালু জমিতে পান চাষ করে সাফল্য পেয়েছে কৃষক। পাহাড়ের ঢালুতে পানের আবাদে করে লাভবান হচ্ছে কৃষক। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি এসব পান যাচ্ছে জেলার বাইরেও। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নয়মাইল, আট মাইল এলাকায় অন্তত ৫০ জন চাষী পাহাড়ে চূড়া এবং ঢালু অংশে পান চাষ করেছে। পাহাড়ি ঢালু ছাড়াও অনেক চাষী সমতল ভূমিতে পান চাষ করছেন।
সরেজমিনে জেলার দীঘিনালার সীমানা পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের চূড়ায় পানের বরজ। কয়েকজন চাষী জানান, কয়েকটি স্থানের পানের মড়কের কারণে পান পাতা নষ্ট হলেও গড়ে গত মৌসুমের তুলনায় এবার ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। নয়মাইল এলাকার পানচাষী নবীন ত্রিপুরা জানান, প্রতিটি বরজ থেকে পান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পানচাষীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে এবার বিপণনের তেমন ঝামেলা নেই। কারণ এখন পান বিক্রি করার জন্য বাজারে নিতে হয় না । তিনি আরো জানান, বিশ (২০) শতকের একটি বাগান পান চাষ করে খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা। পুরো মৌসুমে অন্তত দেড় লক্ষ টাকার পান বিক্রি করা যাবে। একটি সুস্থ পান গাছ ভালো ফলন থেকে ৮০ থেকে ১৪০ টি পর্যন্ত পান পাওয়া যায়। মুনাফা বেশি হওয়ায় চাষীদের মধ্যে পান চাষে আগ্রহী বেশি বলে জানান তিনি। একই এলাকায় কৃষক রোহিত ত্রিপুরা জানান, প্রতি বিড়া পান মান ভেদে ৮০ থেকে ১শ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো ফলন এবং বাজারে দাম ভালো থাকলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ৮০ হাজার টাকা আয় হবে। সাধারণ সাপ্তাহিক হাটের দিন ছাড়াও বেপারিরা প্রতিদিনই পান কিনে নিয়ে যাচেছ। শীতকাল পুরোটায় পান সংগ্রহ ও বিক্রির সময়।
তবে একাধিক এলাকায় পান চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায় পান চাষ নিয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তারা কোনো সহযোগিতা পায় না। খাগড়াছড়ি– দীঘিনালা সড়কের পাশে লাগায়ো তিন বরজে পাানের চাষ করেছে চাষীরা। তারা জানান, আমি কীভাবে চাষাবাদ করছি তা দেখার জন্য কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তা কখনো আসেনি। প্রণোদনাও কখনো পায়নি। পান চাষ নিয়ে কখনো কোনো পরামর্শ কৃষি বিভাগ থেকে পাওয়া যায়নি। এতে নানা রোগ বালাইয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না কৃষক। তবে চাষীরা জানান, সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় পানের খরচ বেড়েছে। টিএসপি, এসওবি, এমওপি, জিপসাম এবং প্রচুর পরিমাণে জৈব সার দিতে হয়। নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ না করলে বরজ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। সার এবং কীটনাশক বাবদ চাষের খরচ বেড়েছে। গাছের গোড়ায় পচন ও পাতা ছিন্দ্র হয়ে যাওয়া রোগে আক্রান্ত হতে হয়। সরকারি সহযোগিতা ফেলে পান চাষ আরো সম্প্রসারণ করা যেত বলে কৃষকরা জানান।
পান বেপারি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, সমতলরে পাশাপাশি পাহাড়ের ঢালু অংশ পান চাষ হওয়ায় পানের উৎপাদনর বেড়েছে। পানের মানও ভালো। বরজ থেকে আমরা সংগ্রহ করি। স্থানীয় হাটের দিন ছাড়াও এসব পান ফেনী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ–পরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার জানান, সমতলের পাশাপাশি পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া পান চাষের উপযোগী হওয়ায় পাহাড়ের চূড়া এবং ঢালু অংশ পান চাষ হচ্ছে। পানের সবচেয়ে মারাত্মক রোগ পাতায় মড়ক। মড়কের কারণে চাষীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে পান চাষে কৃষক অধিক লাভবান হবে। চলতি মৌসুমে ৭০ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে।