পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে তোলার কথা বললেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই অঞ্চলকে পর্যটকদের জন্য বিশ্বমানের গন্তব্যে পরিণত করব। গত শনিবার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা কার্যালয়ের সভাকক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে ‘হারমোনিয়াস’ সহাবস্থান নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করে সেখানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে। খবর বিডিনিউজের।
হাটহাজারীর স্থানীয় সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যে–কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা সকলে মিলে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছি। অপরাধের বিরুদ্ধে এক চুল ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারি জমি ও খাল বেদখলমুক্ত করতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড থেকে চৌধুরীহাট, বড়দিঘির পাড় ও অক্সিজেন এলাকা পর্যন্ত যানজট কমাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিনের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান : হাটহাজারী প্রতিনিধি জানান, হাটহাজারীতে একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উপজেলা প্রশাসন কর্মসূচি গ্রহণ করে। হাটহাজারীর সংসদ সদস্য ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের প্রত্যেককে দল–মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়তে হবে। সন্ত্রাস চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ জায়গা দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়ম, দুর্নীতি করলে তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুল আবসার, হাটহাজারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি কেশব কুমার বড়ুয়া, বিএনবির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ ও সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান, পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব অহিদুল আলম প্রমুখ।
চট্টগ্রামের উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে : বাসস জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, গত ১৭ বছর চট্টগ্রাম অবহেলিত ছিল। আক্ষরিক অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বর্তমান সরকারের সময়ে সেই ওয়াদা বাস্তবায়ন করা হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত শনিবার সকালে প্রথমবারের মতো নিজ জেলা চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় নিয়েছি, তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ তারই একটি অংশ।
দল ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে জানিয়ে মীর হেলাল বলেন, এ অঞ্চলের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পাহাড়ি–বাঙালি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিয়ে যাব। গত ১৭ বছরে চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরে আন্দোলন–সংগ্রামে নেতাকর্মীরা জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। তাদের অবদান মূল্যায়ন করেই আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি মানুষের ভালোবাসা। আমার নেতা তারেক রহমান আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন।












