পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনই বিএনপির

আজাদী ডেস্ক | শুক্রবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য তিন জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বান্দরবানে রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, খাগড়াছড়িতে ওয়াদুদ ভূইয়া এবং রাঙামাটিতে দীপেন দেওয়ান বিপুল ভোটে নিজ নিজ আসনে জয় নিশ্চিত করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে ঘোষিত ফলাফলে এ চিত্র উঠে আসে।

বান্দরবান : প্রতিনিধি জানান, বান্দরবান আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী ধানের শীষ প্রতীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ১৮৭টি কেন্দ্রের সবগুলোর চূড়ান্ত গণনা শেষে সাচিং প্রু জেরী মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭১৮ ভোট। জাতীয় পার্টি (কাদের) মনোনীত প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর মো. ওয়ালীউল্লাহ লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৪০৫ ভোট।

অপরদিকে, ১৮৭টি ভোটকেন্দ্রে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৮ হাজার ৮১৭টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৮৯ হাজার ৩৬৬টি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম আরা রিনি জানান, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বেসরকারিভাবে ধানের শীষ প্রতীকে সাচিং প্রু জেরী নির্বাচিত হয়েছেন।

খাগড়াছড়ি : প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়ি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের ধর্মজ্যোতি চাকমাকে পরাজিত করে জয় নিশ্চিত করেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ২০৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের ওয়াদুদ ভূইয়া মোট ১ লাখ ৪৮ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের ধর্মজ্যোতি চাকমা পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৭৯ ভোট।

অন্যদিকে, ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান পেয়েছেন ৫২ হাজার ৮৭৯ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৬২১ ভোট। ফলাফল গণনা শেষে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া।

এদিকে, খাগড়াছড়িতে নিজ কেন্দ্রে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এয়াকুব আলী চৌধুরী। আচলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৬০১ ভোট। বিপরীতে একই কেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া পেয়েছেন ১ হাজার ৪৩৮ ভোট।

ফলাফল অনুযায়ী, ওই কেন্দ্রে ওয়াদুদ ভূইয়া দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর চেয়ে ৮৩৭ ভোট বেশি পেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন। নিজ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এলাকায় এমন ফলাফল রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

রাঙামাটি : প্রতিনিধি জানান, ২৯৯ নম্বর পার্বত্য রাঙামাটি আসনে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী দীপেন দেওয়ান। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা, তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার ২২২। তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭১ হাজার ৬৯৯ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৫টি।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ এর ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে’ বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন রাঙামাটির রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী। এ সময় রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন, অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক আলমগীর হোসেন, রাঙামাটির সিনিয়র নির্বাচন অফিসার শফিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ২১৪টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক পেয়েছেন ২২ হাজার ৭১৫ ভোট। জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ২ হাজার ৯৭৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দীন পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৭২ ভোট। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত কোদাল প্রতীকের প্রার্থী জুঁই চাকমা পেয়েছেন ১ হাজার ৭১ ভোট। গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আবুল বাশার (বাদশা) পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট।

প্রসঙ্গত, রাঙামাটির মোট দশ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। এদিন ভোট ২ লাখ ৭৩ হাজার ৭৯৯ ভোট পড়েছে, যা মোট ভোটের ৫৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরমধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৭। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ১০ হাজার ১৫২।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধকক্সবাজারের চার আসনে বিএনপির জয়