পাম্পগুলো বন্ধ কেন?

পেট্রোল ও অকটেনের ঘাটতি নেই, সরবরাহ স্বাভাবিক : বিপিসি অবৈধভাবে মজুদ হচ্ছে কি না, মনিটরিং দাবি

হাসান আকবর | শনিবার , ১৪ মার্চ, ২০২৬ at ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

সরকারের দাবি, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। নেই পেট্রোল ও অকটেনের কোনো অভাব। দেশের মোট পেট্রোল এবং অকটেনের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আসে দেশীয় উৎস থেকে। গ্যাসক্ষেত্রের তলানি বা কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে এসব জ্বালানি তৈরি করা হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকেও প্রতিদিন অন্তত ৫০০ টন পেট্রোল উৎপাদিত হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বলছে, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বাস্তবে চট্টগ্রাম নগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। নগরীর অধিকাংশ পাম্পেই পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের জন্য বিক্রি হলেও বেশিরভাগ সময় পাম্পগুলো বন্ধ রাখা হচ্ছে। অনেক পাম্পে বাঁশ ও দড়ি দিয়ে প্রবেশপথ আটকে রাখা হয়, আবার কোথাও লোহার গেট বন্ধ করে রাখা হচ্ছে। ফলে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন গাড়ির মালিকরা। প্রায় প্রতিটি পাম্পের সামনে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। শত শত গাড়ি ও মোটরসাইকেল ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও অনেক সময় শেষ পর্যন্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগী গাড়িচালক ইঞ্জিনিয়ার আবু তাহের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কী এক আজব দেশে আছি ভাই। সরকার বলছে সংকট নেই, অথচ পাম্পের গেটে বিরাট বাঁশ বেঁধে রাখা। পুরো শহর ঘুরেও কোথাও তেল পাচ্ছি না। প্রতিটি পাম্পের সামনে লম্বা লাইন। শুনলাম একটি পাম্প দশ লিটার করে তেল দিচ্ছে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর বলে তেল শেষ।’

তিনি বলেন, অনেক গাড়ি পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু বাসায় ফিরে যাওয়ার মতোও তেল নেই। স্টার্ট দেওয়ার মতো জ্বালানি না থাকায় অনেকে চরম বিপাকে পড়ছেন।

গাড়ি মালিকদের অভিযোগ, যদি সত্যিই জ্বালানি তেলের কোনো সংকট না থাকে, তাহলে পাম্পগুলোতে কেন পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে নাএ প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে। কিছু গাড়িচালক ও ভোক্তার সন্দেহ, ভবিষ্যতে তেলের দাম বাড়তে পারে বা দীর্ঘমেয়াদী সংকট তৈরি হতে পারেএমন আশঙ্কা থেকে কোনো কোনো পাম্প মালিক অবৈধভাবে মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, একজন পাম্প মালিক বিপিসির তেল বিপণন কোম্পানির ডিপো থেকে কতটুকু জ্বালানি সরবরাহ নিয়েছেন, কতটুকু বিক্রি করেছেন এবং রিজার্ভারে কোনো অতিরিক্ত মজুদ আছে কিনাএসব বিষয় প্রশাসন মাঠে নেমে তদারকি করলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি কমতে পারে।

অন্যদিকে বিপিসির এক পদস্থ কর্মকর্তা জানান, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। নিয়মিতভাবে তেলের জাহাজ দেশে আসছে এবং পাইপলাইনেও রয়েছে। তিনি বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চলছে। বর্তমানে সেখানে অন্তত আরও ২৩ থেকে ২৪ দিন উৎপাদন চালানোর মতো ক্রুড অয়েল মজুদ রয়েছে।’

সরকার পক্ষ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ে পেট্রোল ও অকটেনের সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় চট্টগ্রাম নগরীর গাড়িচালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।

ভোক্তাদের দাবি, প্রশাসনের নিবিড় মনিটরিং থাকলে পরিস্থিতি এমন অসহনীয় হতো না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু
পরবর্তী নিবন্ধমাতামুহুরী নদীর শতাধিক স্থানে ভূ-গর্ভের বালু উত্তোলন