খাগড়াছড়ির পানছড়িতে তিন জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পানছড়ির চেঙ্গী ইউনিয়নে মধুমঙ্গল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাবেক সদস্য বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানছড়ি থানার ওসি মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টমটমে করে ৫ যুবক পানছড়ি উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা গুলি করলে তিনজন ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান এবং অপর দুইজনকে ধরে নিয়ে যায়। নিহতরা সকলে জেএসএস সন্তু গ্রুপের কর্মী। দল ত্যাগ করায় তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতরা হলেন পদ্মা চাকমা (১৮), ধনা চাকমা (১৮) এবং রিয়েল চাকমা (১৮)। ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং ৪টি বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
পানছড়ি থানার ওসি মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, দুপুরে চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গল পাড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ঘটে। এ সময় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। লাশ উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, পানছড়ির ঘটনা দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি নয়, জেএসএস সন্তু গ্রুপের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ। জেএসএস সন্তু গ্রুপের মধ্যে সাধারণ কর্মীদের বিদ্রোহ থেকে এই ঘটনার উৎপত্তি হয়েছে। পাঁচ সদস্য বিদ্রোহ করে দলত্যাগ করতে চাইলে তাদের ওপর মধুমঙ্গল পাড়ায় জেএসএস সন্তু গ্রুপ গুলি বর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলে তিন জন মারা যায়, বাকি দুই জনকে বন্দী করা হয়। তবে এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা) বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











