পাকিস্তানের পদক্ষেপে উল্টো বিপদের ঝুঁকি

ইমরান খানের ঘাঁটিতে জরুরি অবস্থা

| বৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ

সড়কে কন্টেনারের ব্যারিকেড, শহরজুড়ে সেনা টহল আর বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফের (পিটিআই) রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর মাধ্যমে স্থগিত করা হয়েছে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সরকারও।

রোববার জরুরি অবস্থা জারির পর শুরুতে স্কুল বন্ধ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করা হলেও দুদিনের মাথায় তা সচল হয়। তবে পিটিআই নেতাদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। খবর বিডিনিউজের।

মঙ্গলবারও খাইবার জেলায় দলটির কর্মীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। আটক হয়েছেন বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। পিটিআইয়ের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সরকারের দাবি, তিনি নিরাপত্তা হেফাজতে আছেন।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, সন্ত্রাসবাদের মারাত্মক হুমকি থেকে জনগণকে রক্ষা করতেই সাংবিধানিক এইপদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সরকারের ওই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হতে পারে। ২০২৬ সালের গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্সে সন্ত্রাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান। এর মধ্যে জঙ্গি আস্তানা থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে দফায় দফায় বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ, যদিও কাবুল ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সীমান্তে বৈরিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে হুতিদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় সৌদি আরবকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাকিস্তান আগেই বহুমুখী আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে নতুন সংকট তৈরি করাকে আগুন নিয়ে খেলা হিসেবে দেখছেন কুগেলম্যান। তিনি বলছেন, প্রাদেশিক সরকার না থাকায় স্থানীয়দের সব ক্ষোভের তীর এখন সরাসরি কেন্দ্রের দিকে যাবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএয়ার ফ্রান্সের উড়োজাহাজে ৩১ মুসলিম-প্রধান দেশের ক্রু নিষিদ্ধ
পরবর্তী নিবন্ধজয়পুরে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ