পাইকারি-খুচরায় দামে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ব্যবধান, অনুসন্ধানে কমিটি হবে

চট্টগ্রামে বাণিজ্যমন্ত্রী, গেলেন খাতুনগঞ্জে ওজন স্কেলসহ নানা বিষয়ে সহায়তা চাইলেন ব্যবসায়ীরা

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ১৬ মার্চ, ২০২৬ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারে অনেক ক্ষেত্রে ‘অগ্রহণযোগ্য’ দামের ব্যবধান দেখা যায়। এই ব্যবধানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, প্রশাসনের সদস্য এবং প্রয়োজন হলে অন্য পেশাজীবীদের নিয়ে একটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ কমিটি গঠন করা হবে। গতকাল রোববার খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত : ভোগ্যপণ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ও দামের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বা পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়া স্বাভাবিক। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণজনিত কোনো কারণে যেন পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। কোথাও কোথাও খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হতে পারে। সেটি সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়। অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিশ্বে কোথাও সংঘাত হলে সরবরাহে চাপ ও দামের ঊর্ধ্বগতি হতে পারে। তবে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্য রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বর্তমানে বাজারে যে পণ্য সরবরাহ রয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগ যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশে এসেছে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা হলে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন নীতিগত ব্যবস্থা নিতে পারে, যাতে ভোক্তাদের উপর চাপ কম পড়ে।

সভায় ‘দামি ও বিলাসী’ ফল আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তা নেই মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, কিছু ফল রয়েছে যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। যেমন আপেল, আঙুর, কমলা। এসব ফলের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার প্রয়োজনে নীতিগত পদক্ষেপ বিবেচনা করবে।

এদিকে বাজার তদারকির কারণে ব্যবসায়ীরা যেন ‘অযথা হয়রানির’ শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসাবাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি ব্যবসায়ীরাই। সরকারের কাজ হলো ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাজার যেন বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে তা নিশ্চিত করা। চলতি রমজান মাসে ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আছে দাবি করে তিনি বলেন, এটি গত কয়েক দশকের তুলনায় ইতিবাচক উদাহরণ।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি আহমদ রশীদ আমু, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুশ বশর চৌধুরী ও সহসাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ।

সভায় খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কাছে মহাসড়কে ওজন স্কেল, নিত্যপণ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও আমদানির সঠিক তথ্য, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি, আয়কর সমস্যা, চাঁদা, ঘুষসহ নানা বিষয়ে সহায়তা চান।

একই দিন বিকালে মন্ত্রী চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সার্কিট হাউসে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি বলেন, ঈদের পর অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবার বৈঠক করা হবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানার সমস্যা, কন্টেইনার জটসহ ব্যবসাবাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জটিলতা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগণভোটের রায় বাস্তবায়নের আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধশুরু হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি