পাঁচটি ক্লাবের পক্ষে এই সময়ে খেলা সম্ভব নয় তবে লিগ শুরুর এতো তাড়া কেন ডিএফএ’র

ক্রীড়া প্রতিবেদক | সোমবার , ১৯ আগস্ট, ২০২৪ at ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফলে পতন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের। এরপর থেকে দেশে চলছে নতুন এক সরকার। তারা চেষ্টা করছে দেশকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসতে। কিন্তু এমনই এক অবস্থায় চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন মাঠে খেলা নামাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। দফায় দফায় সভা করে সবশেষ আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রিমিয়ার ডিভিশন ফুটবল লিগ মাঠে নামাতে উঠে পড়ে লেগেছে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন। অথচ প্রিমিয়ারে একটি দল গঠন করতে কম করে হলেও পঞ্চাশ লক্ষ টাকা খরচ হয় বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তারা। দেশের পট পরিবর্তনের ফলে যে সব মানুষ বা ব্যবসায়ী ক্লাবগুলোকে আর্থিক ভাবে সহায়তা করে তাদের বেশিরভাগই হয় পলাতক নাহয় চুপ হয়ে বসে আসে। ফলে এই অবস্থায় প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব গুলোর পক্ষে এই মুহুর্তে মাঠে দল নামানো যে কতটা কঠিন সেটা বেশ কয়েকটি দল পরিষ্কার করে দিয়েছে। তারপরও ডিএফএ যেন ফুটবলকে মাঠে নামিয়েই ছাড়বে। এরই মধ্যে লিগের গত আসরের চ্যাম্পিয়ন মাদারবাড়ি উদয়ন সংঘ, রানার্স আপ সিটি কর্পোরেশন একাদশ, বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্রীড়া সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং এবারের প্রিমিয়ারে নবাগত দল ফিরিঙ্গি বাজার লাকিস্টার ক্লাব জানিয়ে দিয়েছে এই মুহুর্তে তাদের পক্ষে খেলা সম্ভব না। গত শনিবার ডিএফএর সভা ছিল। সে সভা মুলতবী করা হয়। আগামীকাল আবার সভায় বসবে ডিএফএ। জানা গেছে তারা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে লিগ শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে। কিন্তু সেটা আদৌ কতটা সম্ভব হবে সেটা বলতে পারছেননা খোদ ডিএফএ সভাপতি এস এম শহীদুল ইসলাম।

তিনি জানান আসলে বেশ কয়েকটি দল জানিয়েছে তাদের পক্ষে এই মুহুর্তে খেলা সম্ভব না। বিশেষ করে দুটি অফিস দল বন্দর এবং সিটি কর্পোরেশন। দুটি সংস্থারই এখন কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে। বন্দর দলের প্রতিনিধি সুলতান মাহমুদ শাহীন জানিয়েছেন, বন্দরে কেবলই নতুন চেয়ারম্যান যোগদান করেছেন। আর তিনি এখন এমন অবস্থায় রয়েছেন যে তার কাছে গিয়ে খেলার বিষয়ে কথা বলা সম্ভব না। তাই আমরা বলেছি অন্তত আরো একমাস লিগ পিছিয়ে দিতে। তারপরও যদি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি না পাই তাহলে আমরা চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেব এই বছর আমরা খেলতে পারবনা। একই অবস্থা সিটি কর্পোরেশনেরও। এই দলটির কর্মকর্তা আলি আকবর জানিয়েছেন আসলে এই মুহুর্তে খেলা নিয়ে কথা বলার মত অবস্থা নেই কর্পোরেশনে। কবে নাগাদ বলতে পারব তারও কোন নিশ্চয়তা নেই তাই আমরা আসলে কিছু বলতে পারছিনা। এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন বন্দর এবং সিটি কর্পোরেশনের ব্যাপারে দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক এবং ডিএফএ এর কর্মকর্তারা। তারা বুঝিয়ে খেলানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে ডিএফএ কর্তারা ৭ সেপ্টেম্বর লিগ শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগুলেও এখনো তাদের স্পন্সর নিশ্চিত হয়নি। আগের যারা স্পন্সর জিপিএইচ ইস্পাত কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিটি পাঠালেও তার কোন জবাব পায়নি। ডিএফএ সভাপতি জানিয়েছেন তারা যদি স্পন্সর না করে তাহলে আমাদেরকে নতুন স্পন্সর খুঁজতে হবে। এদিকে একাধিক ক্লাব কর্মকর্তা জানিয়েছেন নিজেরা এখনো স্পন্সর ঠিক করতে পারেনি অথচ তারা কিনা দলগুলোর দায়িত্ব নেবে। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কর্মকর্তা সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি জানিয়েছেন তাদের ক্যাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়রা চলে গেছে যার যার বাড়িতে। আমাদের কর্মকর্তাদের অনেকেই রয়েছে আত্নগোপনে। তাছাড়া খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি অনেক বড়। তাদের নিরাপত্তা বিধান করবে কে ? এত সমস্যা নিয়ে আসলে খেলা যায়না। লিগের নবাগত দল ফিরিঙ্গি বাজার লাকিস্টার ক্লাবের কর্মকর্তাদেরও একই কথা। ক্লাবটির কর্মকর্তা সামিউল হাসান রুম্মন বলেন তাদের যারা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন তারা নিজেরা রয়েছে বিপদে। আর টাকা ছাড়া দল চালানো সম্ভব না। তাই আমাদের পক্ষে খেলা যে সম্ভব না সেটা আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি। এমনিতেই এবারের প্রিমিয়ার লিগে দল রয়েছে ৯টি। আগেই কোয়ালিটি স্পোর্টস ক্লাব তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এখন যদি আরো একাধিক দল নাম প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে সেটা যে আর লিগ হবেনা সেটা স্বীকার করছেন ডিএফএ সভাপতি এস এম শহীদুল ইসলামও। তিনি বলেন আমরা চেষ্টা করব। যদি সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয় তাহলে লিগ হবে। প্রিমিয়ার লিগতো আর যেনতেন খেলা নয়। তাও আবার দেশের দ্বিতীয় সেরা লিগ। এখানে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয় যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে লিগের মানের বিষয়ও। দেশের থানা গুলো চালু হলেও পুলিশ রয়েছে নানা কাজে ব্যস্ত। তাদের পক্ষে প্রিমিয়ার লিগে মাঠের বা মাঠের বাইরের নিরাপত্তা বিধান করা সম্ভব কিনা সে প্রশ্নও উঠছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের পরিবারও উদ্বেগের মধ্যে থাকতে পারে। তাই এতগুলো সমস্যা আর বাধা ঠেলে কেন ডিএফএ ফুটবল মাঠে নামাতে তৎপর হয়ে উঠেছে সে প্রশ্নের কোন উত্তর খুঁজে পাচ্ছেনা অংশ গ্রহণকারী দলগুলোর কর্মকর্তারা। গতকাল বেশ কয়েকটি ক্লাবের কর্মকর্তারা অভিযোগ তুলে বলেন এখন আগের পরিস্থিতি বজায় আছে বলে মনে করলেতো ভুল হবে। গত একযুগে একক সিদ্ধান্তে চলেছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার এবং ডিএফএ এর কাজকর্ম। এখনতো আর সে পরিস্থিতি নেই। সেটা বুঝতে হবে ডিএফএ কর্তাদের। ক্লাব কর্মকর্তারা বলেন ডিএফএতে যে সব কর্মকর্তা রয়েছেন তাদের বেশির ভাগেরই প্রিমিয়ারে দল নেই। তাই তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। আর সে জন্যই হয়তো তারা একটা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা বুঝতে পারছেনা এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। সামনে বাধার পাহাড়। খেলোয়াড়রা যে যার যার বাড়িতে। লিগের স্পন্সর নেই এখনো। দল গুলোর অর্থ দাতারা নেই। নিরাপত্তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তারপরও যেন ডিএফএ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য মাঠে ফুটবল নামানো। অথচ দেশের কোথাও কোন খেলাধুলা নেই। কবে শুরু হবে তারও কোন ঘোষনা বা নিশ্চয়তা নেই। সেখানে চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা কি এই পরিস্থিতিতে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ আয়োজন করে সস্তা বাহবা কুড়াতে চান ? তেমন প্রশ্নও করেছেন অনেকেই। বলা যায় দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় খেলার মাঠের চারদিকে কেবলই অন্ধকার। আর সে অন্ধকারের মাঝে কোন আলো খুজতে চান চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা সেটা তারাই বলতে পারবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনারী বিশ্বকাপ আয়োজন এখন রাষ্ট্রীয় ব্যাপার বললেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
পরবর্তী নিবন্ধযে কারণে সহসাই শুরু হচ্ছে না শাকিব খানের ‘বরবাদ’