‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো– তাপস নিঃশ্বাস বায়ে, মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে…’ পুরানো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে নতুন বঙ্গাব্দের শুরু হয় বিশ্ব কবির এই গানের মধ্য দিয়ে। বাংলা বছরের প্রথম মাস বৈশাখ। আর বৈশাখ মাসের পহেলা তারিখ বছরের প্রথম দিন বলে বাঙ্গালি এই দিনটি বিশেষভাবে পালন করে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ দিনটি পালিত হয়। ধর্ম, বর্ণ,সমপ্রদায় নির্বিশেষে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দিনটি পালন করে আসছে। পহেলা বৈশাখের দিন নানা রকম খই, মুড়ি, নাড়ু, মিষ্টি, পায়েস, পান্তা ইলিশ খাওয়ার ও প্রচলন রয়েছে। পহেলা বৈশাখের দিন শহরে ও গ্রামে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষবরণ উৎসব পালিত হয়। এ উপলক্ষে গ্রামে ও শহরের বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসার রেওয়াজ রয়েছে। তবে শহরের মেলার সাথে গ্রামের মেলার অনেক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বৈশাখ মাসের পহেলা তারিখে গ্রামের আর একটি বড় অনুষ্ঠান হল হাল খাতা খোলা। চৈত্র মাসের ৩০ তারিখে দোকানের সমস্ত হিসাব নিকাশ শেষ করে পহেলা বৈশাখের তারিখে দোকানের সমস্ত হিসাব নিকাশ শেষ করে পহেলা বৈশাখের দিন ভোরবেলা দোকানের ক্রেতাদের মিষ্টি খাইয়ে নতুন হাল খাতা খোলা হয়। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, নববর্ষ আরম্ভ করার এটা একটা শুভ সূচনা। গরিব ধনী যে যেমন ভাবে পারে জিলাপি, বাতাসা, ক্ষির, মিষ্টি ইত্যাদি দিয়ে দিনটি শুরু করে। পহেলা বৈশাখের আরেকটি বড় মিলন মেলা হল বৈশাখী মেলা। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা এবং গ্রামাঞ্চলে জাঁকজমকভাবে এই মেলা বসে। ঢাকার রমনা বটমূলে আর চট্টগ্রামে সিআরবিতেও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্নভাবে বর্ষ বরণের উৎসব পালন করেন। কেউ গান শোনে, কেউ গান গায়, কেউ বা নতুন জিনিস কিনে, আবার কেউ বা পান্তা ভাত, ইলিশ ও শুটকি ভর্তা খাওয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন রকমের পিঠা পুলিসহ নানা গ্রামীণ খাবার কিনে বাড়ি ফিরে। তাই ধনী গরিব সকল মানুষের প্রতীক্ষার দিন পহেলা বৈশাখ। এদিন মানুষের কোন ভেদাভেদ থাকে না, যে যেমনভাবে পারে ঘুরে, নাগর দোলায় চড়ে, গান গায়, যেন পুরনো ব্যথা গ্লানি ধুয়ে যায়। নতুন বছর নতুন সুখবর নিয়ে আসুক এই প্রত্যাশা নিয়ে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে গ্রামে অনেক জায়গায় নৌকা বাইচ হয়। আবার মেলার একদিকে একতারা দোতরা বাজিয়ে, গান গেয়ে মেলাকে আরো মুখরিত করে তোলে শিল্পীরা। আগের দিনে মেলা উপলক্ষে বসত ছোটদের পুতুল নাচ যা দেখে শিশুরা হারিয়ে যেত ভাবনার এক অচিন দেশে। এখন কালের আবহে হারিয়ে গেছে পুতুল নাচ, সহ গ্রামীণ অনেক ঐতিহ্য। তবুও পহেলা বৈশাখ উদযাপনে আধুনিকতার ছোঁয়া আসলে ও বাঙালির একান্ত প্রাণের উৎসব হিসেবেই বাঙালিরা পালন করে যাবে যুগ, যুগ ধরে। কোনো ঝড় ঝঞ্ঝা, বাধা বিঘ্ন, অভাব অনটন এ উৎসব কে ম্লান করতে পারবে না কারণ পহেলা বৈশাখ বাঙালির সংস্কৃতি আর প্রাণের উৎসব।












