পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে নেওয়ার বিরোধিতায় ট্রাম্প

| বুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করে নেওয়ার পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন। সোমবার সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হোয়াইট হাউজের এই কর্মকর্তার এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে জুড়ে নেওয়ার পক্ষে নন। একটি স্থিতিশীল পশ্চিম তীর ইসরায়েলকে নিরাপদ রাখে এবং ওই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বলা হয় বিবৃতিতে।

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করার পরদিন হোয়াইট হাউজের এই মন্তব্য এলো। তবে হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তার বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই নতুন পদক্ষেপের সরাসরি নিন্দা জানানো হয়নি কিংবা এমনকি এ বিষয়টি উল্লেখও করা হয়নি।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার অনুমোদিত নতুন পদক্ষেপগুলোর ফলে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে জমি কেনা সহজ হবে, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ।

ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং জর্ডান, এই আটটি মুসলিম প্রধান দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। দেশগুলো এই পদক্ষেপকে অবৈধ এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে উচ্ছেদ করার প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও ইসরায়েলের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন।

তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা থেকে আমাদের আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। খবর বিডিনিউজের।

যুক্তরাজ্য সরকার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে বর্ণনা করেছে। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছে। স্পেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও পৃথকভাবে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।

নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিতর্কিত এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে হেবরন শহরে ভবন নির্মাণের অনুমোদনের ক্ষমতা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইসরায়েলের হাতে নেওয়া। এছাড়া দক্ষিণ পশ্চিম তীরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান, বেথলেহেমের কাছে রাহেলের সমাধি এবং হেব্রনের ইব্রাহিমি মসজিদের (কেভ অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস) ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভোটের গাড়ির ‘জনমত বাক্সে’ প্রধান উপদেষ্টাকে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মনের কথা
পরবর্তী নিবন্ধপশ্চিম বাকলিয়ায় সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন মেয়র