পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি করা হোক, দ্রুত চালু হোক পারকি পর্যটন কমপ্লেক্স

| রবিবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৫ at ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর্যটন, বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন গত বুধবার পারকি সমুদ্র সৈকতে নির্মাণাধীন আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকতে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজের সময় বাড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যটন কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। পর্যটন কমপ্লেক্স চালু হলে পারকি সমুদ্র সৈকতে দর্শনার্থীরা সব ধরনের পর্যটন সুবিধা লাভ করবে। এরই সাথে পারকি সৈকতও আধুনিক সৈকত হিসেবে নতুন পরিচিতি পাবে। তিনি আরো বলেন, পানি সমস্যাসহ নানান কারণে পারকি সমুদ্র সৈকতে পর্যটন কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজের প্রকল্প মেয়াদ কয়েক দফা বাড়াতে হয়েছে। কিন্তু আর প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। এই প্রকল্পের সাথে জড়িত সকল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি কমপ্লেক্সের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পের অগ্রগতি ও বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

উল্লেখ থাকে যে, ২০১৮ সালে দুই বছর প্রকল্প মেয়াদ বেঁধে দিয়ে ৬২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের পর অত্যাধুনিক বিশ্বমানের পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ শুরু হয় বহু কাঙ্ক্ষিত পারকি সমুদ্র সৈকতে। এতে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের খবরে পারকি সৈকতকে ঘিরে পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু প্রকল্পের শুরুতেই কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ নিয়ে উঠে নানান অনিয়মের অভিযোগ। এরপর নির্দিষ্ট মেয়াদে একতৃতীয়াংশ কাজ শেষ না হওয়া এবং পরবর্তীতে দুই দফা সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয় ৭১ কোটি ২৫ লাখ টাকায়। এরপরও নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে তো পারেনি উল্টো লবণাক্ত বালির ব্যবহার, নির্মাণাধীন কমপ্লেক্সের দেয়াল ধসে পড়া, কাজের মান নিয়ে নানান অভিযোগের পর এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কবে শেষ হবে তা অনিশ্চয়তায় পড়ে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম নাসরীন জাহান বলেন, পারকি সমুদ্রসৈকতের পর্যটন কমপ্লেক্স একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প। এতে স্থানীয়দের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং টুরিস্ট পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রয়োজন।

পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বিশেষ অবদান রাখতে পারে। বিদেশি পর্যটক ছাড়াও অভ্যন্তরীণ পর্যটন বিষয়ক ভাবনাচিন্তা করার সময় এসেছে। এ জন্য বিভিন্ন স্পট তৈরি করে আনুষঙ্গিক সুবিধা জোরদার করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমাদের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকত, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতটি কোথাও কাদার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। তাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এবং এর রয়েছে অপার সম্ভাবনা। বর্তমানে কক্সবাজার নিয়ে চলছে নানা পরিকল্পনা। ইতোমধ্যে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাগর তীর ঘেঁষে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ দেশিবিদেশি পর্যটকদের কাছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বের পর্যটক বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটন আকর্ষণে কক্সবাজারে আসে। বর্তমানে কক্সবাজার জেলায় তিনটি ট্যুরজম পার্কের কাজ করছে সরকার। তা হলসাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, নাফ ট্যুরিজম পার্ক এবং সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক। ইতিমধ্যে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক চালু হয়েছে। অন্যগুলোর কাজও শেষ পর্যায়ে।

পতেঙ্গা সী বিচ, পারকি সী বিচ, সবুজ পাহাড়ে ঘেরা নয়নাভিরাম প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা ফয়েজ লেক, ফৌজদারহাট ডিসি ফ্লাওয়ার পার্ক, সীতাকুণ্ড গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত, সীতাকুন্ড ইকোপার্ক, ভাটিয়ালি লেক, চন্দ্রনাথ পাহাড়, মীরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণা, মহামায়া লেক, মুহুরী প্রজেক্ট, সুপ্তধারা ঝর্ণা, কমলদাহ ঝর্ণাগুলো দিনদিন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এছাড়াও কর্ণফুলীর তীরবর্তী পতেঙ্গা নেভাল এরিয়া, চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি, ডিসি হিল, বাটালি হিল, ওয়্যার সিমেট্রি, পাহাড় ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাগুলো পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। আমাদের দরকার শুধু এসব পর্যটন স্পটগুলোকে কাজে লাগানো। বিশেষ করে ‘পারকি পর্যটন কমপ্লেক্স’ চালু হলে পারকি সমুদ্র সৈকতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাবে। তখন তাঁরা সব ধরনের পর্যটন সুবিধা লাভ করবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে