পর্যটক বরণে প্রস্তুত কক্সবাজার

কক্সবাজার প্রতিনিধি | শনিবার , ২৯ মার্চ, ২০২৫ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ

বহু বছর পর এবারের ঈদুল ফিতরে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে লম্বা ছুটি মিলেছে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস দিয়ে শুরু হয়ে এবারের ঈদের ছুটি থাকবে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এই লম্বা ছুটি পেয়ে বেশ খুশি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। ঈদুল ফিতরের এই ছুটিতে পর্যটন নগরী বেশ জমবে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প। তাই পর্যটক বরণে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে হোটেলমোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। এবারের ঈদুল ফিতরের এই লম্বা ছুটিতে কক্সবাজারে রেকর্ড পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যেহেতু ঈদের বেশ আগেই ছুটি শুরু হয়েছে এবং ঈদের পর ছুটি থাকবে পাঁচদিন। তার উপর আবহাওয়াও অনুকূলে। সবমিলিয়ে এবারের ছুটিতে কক্সবাজারে রেকর্ড পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজারের হোটেলমোটেলও এখন সেভাবে বুকিং হয়েছে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

হোটেলমোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম বাড়বে। মধ্যে ১ থেকে ২ এপ্রিল চাপ বেশি থাকবে। এরপর ৩ থেকে ৫ এপ্রিল চাপ একটু কমতে পারে। এরইমধ্যে তারকা হোটেলগুলোতে প্রায় শতভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে। অন্যান্য হোটেলগুলো গড়ে ৬০ শতাংশের উপর রুম বুকিং হয়েছে। ঈদের আগে আরো বাড়তে পারে বলে জানান এই পর্যটন উদ্যোক্তা।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাব ও ট্যুরস অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, গত কয়েক বছরের চেয়ে এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটন ব্যবসা ভালো হবে। আবহাওয়াও অনুকূলে থাকায় পর্যটন ব্যবসা চাঙা হওয়ার ইঙ্গিত পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সেই হিসেবে পর্যটন ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে সাজিয়ে তুলেছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ অতিথি বরণে হোটেলমোটেল সাজানো হচ্ছে। সবকিছুতেই যেন বাড়তি মনোযোগ। অনেকে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করছেন ব্যবহার্য পণ্য। রুমে দেওয়া হচ্ছে নতুন রং। জেলা সদরের বাইরেও হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, মহেশখালী, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কসহ জেলার সব পর্যটন স্পটে ইজারাদাররা সাজাচ্ছেন নতুন করে।

হোটেলমোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে তারকা ও ননতারকা, গেস্ট হাউজ ও কটেজ মিলে অন্তত ৫০০ আবাসিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব আবাসনে দৈনিক সোয়া লাখের বেশি অতিথি অবস্থান করতে পারেন। কক্সবাজারে তারকা হোটেল অর্ধশতের মতো। গেস্ট হাউজ, ফ্ল্যাট, স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট এবং কটেজ শ্রেণির আবাসন বেশি। এখানে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরাই বেশি আতিথেয়তা নেন। এসব হোটেলে পর্যটক বাড়লে কক্সবাজার লোকারণ্য হয়। কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানান, পর্যটক যাই আসুক, সব পর্যটন স্পটে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত ট্যুরিস্ট পুলিশ। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের সহযোগিতায় কয়েকটি ভাগে সাজানো হচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশকে। পাশাপাশি সৈকতে উদ্ধারকারী লাইফগার্ডদের প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করা হয়েছে। টেকনাফ ও ইনানীসহ সব পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্বপালন করবে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, ভ্রমণকারীদের বিচরণ নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের একাধিক টিম টহলে থাকবে। পুলিশর‌্যাবসহ সাদা পোশাকের শৃক্সখলা বাহিনীও নিয়োজিত থাকবে আইনশৃক্সখলা রক্ষায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজল-পাহাড়ের উপত্যকা ডাকছে পর্যটকদের
পরবর্তী নিবন্ধঈদের আগে রিজার্ভ বেড়ে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত