এস আলম রিফাইন্ড সুগার মিলের অপরিশোধিত চিনির গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ফলে পরিবেশের ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামত এবং সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিল্লোল বিশ্বাসের নেতৃত্বে কমিটিতে বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এবং চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফুল হক। কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ–পরিচালক কামরুল হাসান, সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন আরেক উপ–পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের সংশ্লিষ্ট এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীব বৈচিত্রের উপর ক্ষতিকর প্রভাব নিরূপণ, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ এবং এ ঘটনায় বর্ণিত ক্ষতির প্রশমন ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য এই কমিটি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে এস আলম সুগার মিলের চারটি গুদামের মধ্যে একটিতে আগুন লাগে। সেই আগুন বৃহস্পতিবারও পুরোপুরি নিভেনি।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের চেষ্টায় মূল কারখানা ও অন্য গুদামগুলোতে আগুন ছড়ানো ঠেকানো গেলেও গুদামের অপরিশোধিত চিনির গলিত বর্জ্য দুদিন ধরে পাশের কর্ণফুলী নদীতে পড়ে দূষণ সৃষ্টি করছে। সোমবার বিকাল থেকেই নদীর দুই তীরে ভেসে উঠছে মাছ ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোড়া চিনির বর্জ্যের কারণে নদীর পানিতে দ্রবীভূত অঙিজেন কমে গেছে। সে কারণে প্রয়োজনীয় অঙিজেন না পেয়ে মাছ ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী ভেসে উঠছে।
পরিবেশ দূষণের বিষয়টি সামনে আসার পর বৃহস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তর ওই ঘটনায় পরিবেশের ক্ষতি নিরূপণের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।












