পরিবার বনাম ডিভাইস

রাফিয়া ডলি | রবিবার , ১৫ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

বর্তমানে ডিভাইসের অপর নাম স্লো পয়জন। শুরুটা করেন মা, নিজের সময় বাঁচানোর জন্য অথবা শিশুকে ব্যস্ত রেখে নিজেও ডিভাইসে ঢুকে যাওয়ার জন্য। খাবার খাওয়ার সময় শিশুর হাতে মোবাইল দিয়ে খাবার খাওয়ালে মায়ের জন্য সহজ হয় ঠিকই কিন্তু যে শিশুকে খাওয়ানো হচ্ছে তার কতটুকু উপকার হচ্ছে সেটা দেখা হয় না। ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে মাইন্ডফুল ইটিং খুব জরুরি। ডিভাইসের কারণে শিশুদের ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। মস্তিষ্ক এবং চোখের ওপর প্রভাব পড়ে, তাই তাদের ঘুম কম হয়। ডিভাইসের বেশি ব্যবহারের ফলে শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি শিশুদের মানসিক ক্ষতির আশঙ্কাও বেশি থাকে। ডিভাইস ব্যবহার করার সময় শিশু এক জায়গায় ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে, তখন তার শরীর স্বাভাবিকভাবে রক্ত চলাচলসহ দেহের অন্যান্য অঙ্গ সচল না থাকায় বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডিভাইসের দিকে মনোযোগী হয়ে খাবার গ্রহণের কারণে এইসব শিশুরা অন্য শিশুদের তুলনায় বেশি খাদ্য গ্রহণ করে এবং ফাস্ট ফুডের দিকে ঝুঁকে পড়ে, ফলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমে মোটা হয়ে যায়। যেহেতু শিশু লালনপালনে মায়ের ভূমিকা বেশি সেহেতু মায়ের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

ডিভাইস শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য ব্যবহার করবে,কোনভাবেই যেনো সেটা আসক্তিতে পরিণত না হয়। সন্তানকে বেড়ে উঠতে সুস্থ পরিবেশ দেয়া এবং সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্বটাও মায়ের বেশি। এখনই যদি শিশুদের ডিভাইস আসক্তি বন্ধ করা না যায় তবে আগামী প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু হবে না সেটা নিশ্চিত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসবসময় গঠনমূলক সমালোচনা করাই শ্রেয়
পরবর্তী নিবন্ধদেশ হতে দেশান্তরে