পরিবহনে নারীদের সাথে ইভটিজিং বন্ধ করা জরুরি

আবদুল হান্নান হীরা | বুধবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ

পরিবহনে নারীদের সাথে ইভটিজিং একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। এটি নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাভাবিক চলাচলের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করে। নিচে ইভটিজিংয়ের কারণ ও প্রতিকার সংক্ষেপে ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলোপরিবহনে নারীদের সাথে ইভটিজিংয়ের কারণ. নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক সচেতনতার অভাব অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাবে কিছু মানুষ নারীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করে। ২. আইনের দুর্বল প্রয়োগ আইন থাকলেও অনেক সময় সঠিকভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় অপরাধীরা উৎসাহ পায়। ৩. ভিড় ও অব্যবস্থাপনা: বাস, ট্রেন, লঞ্চে অতিরিক্ত ভিড় থাকলে সুযোগসন্ধানীরা সহজেই ইভটিজিং করে এবং শনাক্ত করা কঠিন হয়। ৪. নারীপুরুষ বৈষম্যমূলক মানসিকতা: নারীকে দুর্বল মনে করা বা দোষ চাপানোর প্রবণতা ইভটিজিংকে বাড়িয়ে তোলে। ৫. নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব: সিসিটিভি, নারী পুলিশ, বা নির্দিষ্ট অভিযোগ ব্যবস্থার অভাব অপরাধ বাড়ায়। ৬. নীরবতা ও ভয় ভুক্তভোগীরা লজ্জা, ভয় বা সামাজিক চাপে অনেক সময় প্রতিবাদ করতে পারেন না। ইভটিজিং প্রতিকারের উপায়আইনের কঠোর প্রয়োগ: ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে; সচেতনতা বৃদ্ধি: স্কুল, কলেজ, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে নারীর অধিকার ও সম্মান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে; পরিবহনে নিরাপত্তা জোরদার: সিসিটিভি স্থাপন, নারী পুলিশ/গার্ড নিয়োগ এবং হেল্পলাইন চালু করা জরুরি; নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা: নারীদের জন্য আলাদা আসন, কোচ বা নির্দিষ্ট সময়ে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেতে পারে; দ্রুত অভিযোগের সুযোগ: সহজ ও গোপনীয় অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা যেন ভয় ছাড়াই অভিযোগ করতে পারেন; সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা: যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উৎসাহিত করতে হবে; পরিবারের ভূমিকা: পরিবার থেকেই ছেলেমেয়েদের নৈতিক শিক্ষা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ গড়ে তুলতে হবে। পরিবহনে নারীদের সাথে ইভটিজিং বন্ধ করা শুধু নারীদের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআসন্ন নির্বাচনে জনবান্ধব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক
পরবর্তী নিবন্ধচেতনার ছিন্ন বেড়াজাল