পরিবহনে নারীদের সাথে ইভটিজিং একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। এটি নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাভাবিক চলাচলের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করে। নিচে ইভটিজিংয়ের কারণ ও প্রতিকার সংক্ষেপে ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো–পরিবহনে নারীদের সাথে ইভটিজিংয়ের কারণ– ১. নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক সচেতনতার অভাব অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাবে কিছু মানুষ নারীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করে। ২. আইনের দুর্বল প্রয়োগ আইন থাকলেও অনেক সময় সঠিকভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় অপরাধীরা উৎসাহ পায়। ৩. ভিড় ও অব্যবস্থাপনা: বাস, ট্রেন, লঞ্চে অতিরিক্ত ভিড় থাকলে সুযোগসন্ধানীরা সহজেই ইভটিজিং করে এবং শনাক্ত করা কঠিন হয়। ৪. নারী–পুরুষ বৈষম্যমূলক মানসিকতা: নারীকে দুর্বল মনে করা বা দোষ চাপানোর প্রবণতা ইভটিজিংকে বাড়িয়ে তোলে। ৫. নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব: সিসিটিভি, নারী পুলিশ, বা নির্দিষ্ট অভিযোগ ব্যবস্থার অভাব অপরাধ বাড়ায়। ৬. নীরবতা ও ভয় ভুক্তভোগীরা লজ্জা, ভয় বা সামাজিক চাপে অনেক সময় প্রতিবাদ করতে পারেন না। ইভটিজিং প্রতিকারের উপায়–আইনের কঠোর প্রয়োগ: ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে; সচেতনতা বৃদ্ধি: স্কুল, কলেজ, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে নারীর অধিকার ও সম্মান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে; পরিবহনে নিরাপত্তা জোরদার: সিসিটিভি স্থাপন, নারী পুলিশ/গার্ড নিয়োগ এবং হেল্পলাইন চালু করা জরুরি; নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা: নারীদের জন্য আলাদা আসন, কোচ বা নির্দিষ্ট সময়ে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেতে পারে; দ্রুত অভিযোগের সুযোগ: সহজ ও গোপনীয় অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা যেন ভয় ছাড়াই অভিযোগ করতে পারেন; সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা: যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উৎসাহিত করতে হবে; পরিবারের ভূমিকা: পরিবার থেকেই ছেলে–মেয়েদের নৈতিক শিক্ষা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ গড়ে তুলতে হবে। পরিবহনে নারীদের সাথে ইভটিজিং বন্ধ করা শুধু নারীদের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব।












