পরিবর্তনের মহাসুযোগ, আসুন কাজে লাগাই : শফিকুর রহমান

| মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:১১ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী যেসব অঙ্গীকার করেছে, যেসব স্বপ্ন দেখিয়েছে, তা ‘বিশ্বাস করে’ দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার ‘আকুল আবেদন’ জানিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, আল্লাহ পরিবর্তনের এক মহা সুযোগ আমাদেরকে এনে দিয়েছেন। আসুন সেটা কাজে লাগাই। বিগতদিনের রাজনীতি পরিহার করি। একটি নতুন বাংলাদেশ তৈরি করি। যেখানে সবাই মান ইজ্জত ও মর্যাদা নিয়ে বাস করবে। খবর বিডিনিউজের।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আই আহ্বান জানান জামায়াত আমির। গতকাল সন্ধ্যায় তার এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সমপ্রচার করা হয়।

শফিকুর রহমান তার ভাষণে দেশবাসীকে প্রতিশ্রুতি দেন, আমরা সুযোগ পেলে, মহান আল্লাহর ইচ্ছায় জনগণের ভালবাসায় আমরা সরকার গঠন করলে প্রথম দিনে ফজর নামাজ পড়েই আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করব। আর ভোটে জেতার জন্য তরুণ ভোটারদের পক্ষে টানতে তাদের ‘সমাজের ককপিটে’ বসিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজটি তারাই চালাবে। তারাই হবে ক্যাপ্টেন। তারাই হবে এটারপাইলট। আমরা গিয়ে বসবো প্যাসেঞ্জার সিটে। হে তরুণরা, তোমরা তৈরি হয়ে যাও, এই দেশ তোমাদের জন্য, এই দেশ তোমাদের হাতেই তুলে দিতে চাই এবং এই দেশ তোমাদের হাতেই মানাবে। এই দেশ তোমাদের হাতেই গড়ে উঠবে, এটি আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।

বক্তব্যের শুরুতে শফিকুর রহমান বলেন, আজ আমি আপনাদের সামনে এখানে এসেছি কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক ভাষণ দিতে নয়। আজ আমি একেবারে মনের ভেতরের কিছু কথা বলতে চাই। যে কথাগুলো একজন জেনজি, একজন যুবক, আর আমাদের প্রজন্ম সবার সাথে সম্পৃক্ত। একজন মুসলমানের জন্য যেমন, তেমনি আমাদের দেশের অন্য ধর্মের ভাইবোনদের জন্যও। বক্তৃতায় তিনি জুলাই শহীদদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদেরও ‘গভীর শ্রদ্ধাভরে’ স্মরণ করেন।

দেশের মানুষ ‘পরিবর্তন চায়’ মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, কিন্তু একটি মহল পরিবর্তনের বিরোধী। কারণ পরিবর্তন হলেই তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ হবে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এই সংস্কৃতি বদলানোর সাহস সবার থাকে না। ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর হিম্মত সবার থাকে না। এই হিম্মত দেখিয়েছে আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওসমান হাদী ও তাদের সহযোদ্ধারা। তাদের রক্তের শপথ নিয়ে নতুন প্রজন্মের লক্ষ লক্ষ সাহসী সন্তান আজ এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। এই দেশ আমাদের সময়ের এই সাহসী সন্তানদের হাতেই তুলে দিতে হবে। কারণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এই তরুনরা রচনা করবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে আমির বলেন, আমরা তোমাদের হাত ধরতে চাই। জুলাইয়ের মত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সঙ্গী হতে চাই। প্রচলিত ধারা বদলাতে চাই। দেশটা বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকুক, মানুষের জীবনে শান্তি ফিরুক। এই আমাদের চাওয়া। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবাইকে নিয়ে ‘ঐক্যের’ বাংলাদেশ গড়তে চায়, যে বাংলাদেশে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে কেউ দেশের চালকের আসনে বসতে পারবে না।

শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে জামায়াতের ইশতেহার, নারী, ন্যায় বিচার নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছি, যে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরির জন্য ৫টি বিষয়ে হ্যাঁ এবং ৫টি বিষয়ে ‘না’ বলতে হবে। সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে আমরা হ্যাঁ বলতে বলেছি। কারণ এসব মৌলিক শর্ত ছাড়া বৈষম্যহীন, উন্নত, নৈতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পাশাপাশি দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব, চাঁদাবাজিকে স্পষ্ট ‘না’ করতে হবে।

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আমরা ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন সগৌরবে। কর্পোরেট জগত থেকে রাজনীতিসবখানে তাদের মেধার মূল্যায়ন হবে কোনো বৈষম্য ছাড়াই। আমরা এমন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যেখানে কোনো মা বা বোনকে, মেয়েকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। আপনাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গী হোন। একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আমাদের নির্বাচিত করুন।

আলেমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা অঙ্গীকার করছি ভবিষ্যতে কেউ আপনাদেরকে অন্যায়ভাবে বিভিন্ন বিশেষণে ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করতে পারবে না। বিচার বহির্ভূতভাবে আপনাদেরকে হত্যা করতে পারবে না। আমরা জানি অতীতে আপনাদের কোনো মানবাধিকার ছিল না। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হবে নতুন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জাতীয় নীতিপদ্ধতিতে আপনাদের আনুষ্ঠানিক অবদান ও ভূমিকাকে জোরদার করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচোখ-কান খোলা রাখবেন, নির্বাচনে কোনো প্রকার চুরির সুযোগ দেয়া যাবে না
পরবর্তী নিবন্ধসবাইকে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চাই : তারেক রহমান