পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে মিলল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ

নগরীর হালিশহর বুইল্লা পাড়া থেকে গত শনিবার সুরমা আক্তার নামে সাত বছরের এক কন্যা শিশু নিখোঁজ হয়। পরদিন পাশের বন্দর থানার পোর্ট কলোনি এলাকার সরকারি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে তার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। গতকাল রোববার দুপুরে বন্দর এলাকার পোর্ট কলোনির একটি পরিত্যক্ত একতলা পাকা ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ। নিহত সুরমা আক্তার (৭) হালিশহর থানার বড়পোল এলাকার একটি বস্তিতে পিতা মো. কাউছার ও মা হোসনে আরার সঙ্গে থাকতো। সুরমারা দুই ভাই ও দুই বোন।
বন্দর থানার ওসি মাফুজুর রহমান জানান, গত শনিবার হালিশহর বুইল্লা পাড়া থেকে নিখোঁজ হয় সাত বছর বয়সী এক কন্যা শিশু। তার বাবা রিকশা চালক ও মা ভিক্ষা করেন। শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে ভিক্ষা করতো। নিখোঁজের পর দিন দুপুরে নিমতলা পোর্ট কলোনি এলাকার সরকারি পরিত্যক্ত কোয়ার্টার থেকে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার মোটিভ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছি, ময়নাতদন্তের পর কারণ জানা যাবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর মেয়েটাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
জানা যায়, হালিশহর থানা এলাকার বুইল্লা পাড়ার ওই বস্তির পাশেই নিহত সুরমার খালার বাসা। সন্ধ্যায় খালার বাসায় ভাত খেতে বের হয়েই সে নিখোঁজ হয়। পরে প্রতিবেশি আরেক শিশু মেয়ে থেকে সুরমার পরিবার জানতে পারে কীভাবে নিখোঁজ হয় সে। সুরমার খালা জ্যোৎস্না বেগম জানান, তার বাসায় রাতের ভাত খাবার জন্য বের হলে বড়পোল এলাকায় এক রিকশাচালক সুরমাকে দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখায়। এ সময় সুরমাদের প্রতিবেশি এক মেয়েও বিরিয়ানি কিনে দেয়ার জন্য বলে। কিন্তু
রিকশাচালক শুধু সুরমাকে রিকশায় তুলে দ্রুত চলে যায়। ওই মেয়েটি বাসায় ফিরে সুরমার মাকে ঘটনাটি জানায়। তখন তারা সুরমাকে চারপাশে খোঁজ করতে থাকে। খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে শনিবার রাত ৯টার দিকে সন্ধান চেয়ে মাইকিং শুরু করা হয়। কিন্তু রাতভর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে স্থানীয়
লোকজনের কাছ থেকে একটি মেয়ের লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন নিমতলা পোর্ট কলোনিতে গিয়ে সুরমার মরদেহ শনাক্ত করে।
ওসি বলেন, হালিশহর বড়পোল এলাকা থেকে শিশু সুরমাকে গতকাল ৫ টা থেকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না খবর পাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি বিরিয়ানি কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বড়পোল থেকে এনে নির্জন কলোনির পরিত্যক্ত ঘরে ধর্ষণ করে পরে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়। তিনি আরো বলেন, আমাদের ফরেন্সিক টিম আলামত সংগ্রহ করেছে। তদন্ত করে এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ দিকে প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানায়, সকালে স্কুলে আসার পর ওই কক্ষে দেখি একটি ছোট মেয়ে শুয়ে আছে। আমরা আমাদের শিক্ষককে জানাই। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা খানা গড়ে উঠেছে। রাত হলে নির্জন হয়ে উঠে জায়গাটি। ভয়ে কেউ দুপুরের পর সেখানে যায় না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ২০২৩ সালের এসএসসি এইচএসসিও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে
পরবর্তী নিবন্ধমর্টার শেলে কাঁপল সীমান্ত এলাকা