ভাটিয়ারীতে এক দিনমজুরকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই। গতকাল বৃহস্পতিবার আসামি উম্মে সালমা তার স্বামী রফিকুল ইসলামকে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনাসহ ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক চট্টগ্রাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পিবিআই প্রতিবেদনে জানা যায়, দিনমজুর রফিকুল ইসলাম (৪৫) ভাটিয়ারী বিএমএ গেইট কলেজপাড়া সওদাগর কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতো। সেখানে সাকিবুল ইসলাম সাকিব নামে একজনের সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। সেই সুবাধে সাকিব তাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতো। কিছুদিনের মধ্যে বন্ধু রফিকুল ইসলামের স্ত্রী উম্মে সালমার সাথে মোবাইলে সাকিবের সখ্যতা গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে তারা দৈহিক সম্পর্কে জড়ায়। এরই মাঝে স্বামী রফিকুল ইসলাম বিষয়টি জানতে পেরে তার স্ত্রীকে মারধর করে। এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চরম আকারে ধারণ করে। একপর্যায়ে স্ত্রী তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে স্বামীর বন্ধু সাকিবকে নিয়ে তাকে খুন করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একই এলাকার ইমরান প্রকাশ এমরান (২৪) কে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়া করে। ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে ইমরান মোবাইল ফোনে কৌশলে রফিকুলকে ভাটিয়ারী বিএমএ এর উত্তর পার্শ্বে হাটহাজারী টু সীতাকুণ্ড সংযোগ সড়কস্থ ওভারব্রীজের সন্নিকটে ডেকে আনে। সেখানে আগে থেকে রফিকুলের স্ত্রী ও সাকিব অপেক্ষায় থাকে। তারা তিনজন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রফিকুলকে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে পার্শ্ববর্তী লাউ ক্ষেতে লাশ গুম করে রাখে। পরদিন সকালে ওভারব্রীজের সন্নিকটে একটি গলাগাটা লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। ওইদিন রাতে স্ত্রী উম্মে সালমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব প্রদান করা যায়। পিবিআই ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে নিহত রফিকুলের স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা উঠে আসে।
পিবিআই’র তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামাল আব্বাস জানান, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে মৃত রফিকুলের স্ত্রী উম্মে সালমা, ইমরান ও সাকিবুল ইসলাম সাকিবকে গ্রেফতার করে এবং তাদের স্বীকারোক্তিতে রফিকুল ইসলামকে হত্যা করার কাজে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করে। প্রায় একবছর পর গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে কাছে রফিকুলের স্ত্রী উম্মে সালমা তার স্বামীকে হত্যার বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন।











