যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশের মতো মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামেও পালিত হয়েছে পবিত্র শবে বরাত। এ উপলক্ষে সন্ধ্যা থেকে নগরীতে মুসল্লির ঢল নামে। এশার নামাজের সময় শহরের বিভিন্ন মসজিদ, মাজার এবং দরগাহ’য় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। অনেকেই দল বেঁধে গাড়ি নিয়ে এক মসজিদ থেকে অপর মসজিদে গিয়েছেন, জেয়ারত করেছেন এক মাজার থেকে অন্য মাজার। শবে বরাতকে কেন্দ্র করে নগরীতে একটি উৎসবমুখর আবহ বিরাজ করে।
মঙ্গলবার রাতে নগরীর প্রতিটি মসজিদে ছিল উপচেপড়া ভিড়। অনেক মসজিদের ছাদে, সড়কে জামাত আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আলোকসজ্জা করা হয় মসজিদ, মাজার এবং কবরস্থানে। বিভিন্ন মসজিদে এশার নামাজের পর শবে বরাতের তাৎপর্য, গুরুত্ব, শিক্ষা, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা, বয়ান, মিলাদ–মাহফিল, দরুদ পাঠ, জিকির, হামদ, নাত, খতমে কোরআনসহ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন ছিল।
বিভিন্ন মসজিদ মাজার এবং দরবারের সামনে আতর, টুপি, তসবিহ, সুরমা, আগরবাতি, মুখরোচক খাবারের ভাসমান দোকানে বিকিকিনি চলেছে। বেশিরভাগ মসজিদের সামনে ছিল অভাবী মানুষের আনাগোনা, লম্বা লাইন। আর্থিকভাবে সক্ষম মুসল্লিরা তাদের দান সদকা করছেন। অনেকে বাসাবাড়ি থেকে হালুয়া রুটি এনে অসহায়, ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে বিতরণ করছেন।
মসজিদের পাশাপাশি চট্টগ্রামে পীর আউলিয়াদের দরগাহ, মাজার ও দরবারগুলোতে ভক্ত আশেকানদের সমাগম ঘটে। অনেকে নামাজ, মিলাদ, মোনাজাত শেষে ছুটে যান মুরুব্বি ও স্বজনদের কবর জেয়ারতের জন্য। সব মিলে ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালিত হয়েছে পবিত্র শবে বরাত। প্রতিটি মসজিদে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা হয়েছে।
হযরত শাহ সুফি আমানত খান (র.) মাজার শরিফের সৈয়দ মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ খান মারুফ শাহ জানান, পবিত্র শবে বরাত মুসলমানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত হিসেবে বিবেচিত। রাতব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শবে বরাত পালিত হয়েছে। আশেকানরা মোনাজাতে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করেছেন, গুনাহ মাফের জন্য, সুখ–শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেছেন। মাজারে দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে পবিত্র শবে বরাতের উপর বিশেষ আলোচনা করেন মসজিদের খতিব সৈয়দ মোহাম্মদ আবু তালেব আলাউদ্দীন। বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমেদুল হক। তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, হাজার হাজার মুসলিম উম্মাহ পবিত্র শবে বরাতের রাতে মহান আল্লাহকে খুশী করাতে মসজিদে এসেছেন। তারা নামাজ আদায় করেছেন, জিকির করেছেন, প্রিয় নবিজী (সা.) দরুদ পড়েছেন। অনেকেই রোজা রেখেছেন। মুসলিম উম্মাহ নিজেদের গুনাহ মাফ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাতভর ইবাদত বন্দেগীতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন বলেও মাওলানা আহমেদুল হক জানান।












