‘রাসুল (সা.) এর কাছে সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, কোরবানি কি? রাসুল (সা.) বললেন, তোমাদের পিতা হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর সুন্নত। সাহাবিরা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, এতে আমাদের জন্য কি (সাওয়াব) রয়েছে? রাসুল (সা.) বললেন, কোরবানি পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে নেকি রয়েছে’। (ইবনে মাজাহ)।
আগামী বৃহস্পতিবার মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদ অর্থ উৎসব বা আনন্দ। ‘আজহা’ অর্থ কোরবানি বা উৎসর্গ করা। অর্থাৎ ঈদুল আজহা হচ্ছে ত্যাগের উৎসব। আবার কোরবানি শব্দের অর্থ ত্যাগের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করা। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। তাই ঈদুল আজহার দিন চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সামার্থ্যবান মুসলমানরা পরম করুণাময়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ও সন্তুষ্টি অর্জনে পশু কোরবানি দিবেন। একইসঙ্গে মহান রাব্বুল আলামীনের নির্দেশনা মেনে দরিদ্র ও কোরবানি করতে অক্ষম লোকদের মাঝে জবাইকৃত পশুর মাংস বিলি করে সৃষ্টি করবেন সমতা ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত।
জানা গেছে, চান্দ্র মাসের ১০, ১১ ও ১২ জিলহজের যে কোনো এক দিন কোরবানি করা যায়। তবে সারা বিশ্বে ১০ জিলহজ পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয় ঈদুল আজহা। এছাড়া কোরবানির দিন পশু কোরবানির আগে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। যেখানে ধনী–গরিব সবাই এক কাতারে শামিল হয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য কামনা করবেন। এছাড়া ৯ জিলহজ ফজরের নামাজের পর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তালবিয়াহ পাঠ করা ওয়াজিব। তালবিয়াহ হল–আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার,আল্লাহু আকবার, লা–ইলাহা ইল্লাল্লাহি আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
কোরবানির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ত্যাগের মহিমা। কারণ মহান আল্লাহ্পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইবরাহীম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)’কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্ রাব্বুল আ’লামিনের অপার কুদরতে হযরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী মুসলিম সমপ্রদায় আল্লাহপাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকেন। হিজরি দ্বিতীয় সন থেকে মুসলিম উম্মাহ আল্লাহপাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকেন।
আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনের সূরা হজ্জ–এ এরশাদ করেন, ‘এগুলোর (কোরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়’। তাই কোরবানি কেবল মাংস খাওয়ার জন্য নয়। বরং পরম করুণাময়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ও সন্তুষ্টি অর্জন হতে হবে এ কোরবানির মূল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে ইসলামে কোরবানি করা পশুর তিন ভাগের এক ভাগ নিজের জন্য রেখে আরেক ভাগ গরিব–মিসকিন ও এক ভাগ আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার বিধান আছে। তাই বলা যায়, কোরবানি কোরবানিদাতাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া–প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ–দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।
এতিকে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। আল কোরআনের সুরা কাউসারে বলা হয়েছে, ‘অতএব, তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড় এবং কোরবানি করো’। সূরা হজ্জ –এ আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির নিয়ম করে দিয়েছি, যাতে আল্লাহ তাদেরকে যে চতুষ্পদ জন্তুসমূহ দিয়েছেন, তাতে তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’
নগরে ঈদ জামায়াত : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম ও প্রধান জামাত নগরের জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদ প্রাঙ্গণে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়। প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক।
আনজুমান–এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট পরিচালিত পশ্চিম ষোলশহরস্থ দায়েম নাজির জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া জামে মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত সকাল ৭.৩০ টায়। মুসল্লী ও পীর ভাইদের ঈদের জামাতে শরীক হয়ে উভয় জাহানের কামিয়াবী হাসিলের অনুরোধ জানিয়েছেন আনজুমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ও দায়েম নাজির জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া জামে মসজিদের মোতোয়াল্লী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীর আরও ৯টি মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মসজিদগুলো হলো–লালদীঘি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রা.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) চসিক জামে মসজিদ (সাগরিকা স্টেডিয়াম সংলগ্ন)।
এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে সকাল ৮ টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন নগরের বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ হযরত মাওলানা অধ্যক্ষ ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান।












