আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা। ফার্সি শব্দ ‘আখেরি’ অর্থ শেষ। ‘চাহার’ অর্থ সফর মাস এবং ‘সোম্বা’ অর্থ বুধবার। অর্থাৎ সফর মাসের শেষ বুধবারে মোহাম্মদ (সা.) এর সাময়িক সুস্থতাকে স্মরণ করে মুসলমানরা যে ইবাদত করেন, তাই আখেরি চাহার সোম্বা। হযরত মুহাম্মদ (সা.) দীর্ঘ অসুস্থতার পর সফর মাসের শেষ বুধবার সাময়িক সুস্থ হয়ে উঠেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের মুসলিমরা রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তি উদ্যোগে এ উৎসব-ইবাদত যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে।
১১ হিজরির শুরুতে রাসূলুল্লাহ (সা.) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ক্রমেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে, নামাজের ইমামতি পর্যন্ত করতে পারছিলেন না। ২৮ সফর বুধবার মহানবী (সা.) কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন। দিনটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার। কিছুটা সুস্থবোধ করায় রাসুল (সা.) গোসল করেন এবং শেষবারের মত নামাজে ইমামতি করেন। মদীনাবাসী এই খবরে আনন্দ-খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন। নবীজীর রোগমুক্তিতে তাঁর অনুসারীরা এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে, তাদের কেউ দাস মুক্ত করে দিলেন, কেউবা অর্থ বা উট দান করেন। যেমন- আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ৫ হাজার দিরহাম, উমর (রা.) ৭ হাজার দিরহাম, ওসমান (রা.) ১০ হাজার দিরহাম, আলী (রা.) ৩ হাজার দিরহাম, আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ১০০ উট দান করেন।
উল্লেখ্য, ২৯ সফর তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার মাত্র কয়েক দিন পর ১২ রবিউল আউয়াল ইহকাল ত্যাগ করেন মানবতার মুক্তিদূত হযরত মোহাম্মদ (সা.)।
কিছু নির্দিষ্ট বিধি-বিধানের আলোকে আখেরি চাহার সোম্বা পালন করা হয়। যদিও ধর্ম-তত্ত্ববিদগণের মধ্যে এই দিবসটি পালন করা নিয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। দিবসটি মূলত শুকরিয়া দিবস হিসাবে পালিত হয়। যাতে সাধারণত গোসল করে দু’রাকাত শোকরানা-নফল নামাজ আদায় শেষে রোগমুক্তির দোয়া ও দান-খয়রাত করা হয়। বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, দরবার, খানকায় ওয়াজ-নসিহত, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।












