বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দেশব্যাপী বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের প্রথম পর্যায়ে আগামীকাল ১০ মার্চ চট্টগ্রামের ৫০০ পরিবার এটি পেতে যাচ্ছে। নগরীর ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড থেকে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। কাল মঙ্গলবার নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। খবর বাসসের।
সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমে কোনো ধরনের ভুল যেন না থাকে, সে লক্ষ্য নিয়ে ‘জিরো এরর’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পতেঙ্গা থানা নগরীর একপ্রান্তে অবস্থিত। এই থানায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দু’টি ওয়ার্ডের অবস্থান। একটি ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা এবং অন্যটি ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড। প্রাথমিকভাবে সারাদেশে পাইলট প্রকল্পের অধীনে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্ধারিত ১৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে থাকায় দারুণ খুশি দক্ষিণ পতেঙ্গার মানুষ। ঈদের আগেই এই এলাকার লোকজন পাচ্ছেন এ ফ্যামিলি কার্ড। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ দরিদ্র পরিবারের লোকজনের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ–উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা এসব তথ্য নিশ্চিত করে রোববার জানান, জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমে প্রায় ৯০০ কর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আয়–ব্যয় ও সামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্যাটাগরিতে ১০ হাজার ১২৪জন উপকারভোগী প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। তারমধ্যে ৫ হাজার ৫৭৫ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে ৫০০ জন উপকারভোগীর হাতে আগামী মঙ্গলবার পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তুলে দেওয়া হবে ফ্যামিলি কার্ড।
তিনি জানান, তিন ক্যাটাগরির উপকারভোগী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিমাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন প্রতি মাসে।
ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনের কার্যক্রম ইতোমধ্যে নিজে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে নিজেই কয়েকটি বাসায় গিয়েছি এবং তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেছি। এ সময় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে, তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ–পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান বলেন, ইতোমধ্যে পতেঙ্গায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে প্রাথমিকভাবে যাচাই বাছাই শেষ করেছে সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটি পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার সঠিক চিত্র তুলে ধরতেই এই কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, পরে ধাপে ধাপে জরিপে নির্বাচিত সব পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। কোনো পরিবার যেন ভুল তথ্যের কারণে সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সারা দেশে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন যুগান্তকারী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, যা ইতোমধ্যে সারাদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। চট্টগ্রামে যথাযথভাবে জরিপ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সমস্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সফটওয়্যারে পাঠানো হয়েছে।
পতেঙ্গার বাটারফ্লাই এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত নাবিক নুর বক্স বলেন, আমি অসচ্ছল মানুষ, এই বয়সে এসেও কখনো ভাবিনি সরকার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমাদের মতো হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সহায়তা করবে। স্ত্রী খাদিজা বেগমের নামে জরিপ করে গেছেন এবং আগামী মঙ্গলবার তাদেরকে কার্ড গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সন্দ্বীপের নদী ভাঙনের কারণে উদ্বাস্তু রোকেয়া বেগম এখন থাকেন পতেঙ্গার চড়িহালদা এলাকায়। স্বামী মারা গেছে ১৫ বছর আগে, ভিক্ষা করেই জীবন চলে। দুই সন্তানের কেউ তার খবর রাখে না। শ্বাসকষ্টের রোগী। দুবেলা খাবার জোটাতে পারে না, ওষুধ কেনার টাকা তো দূরের কথা। এখন যদি আমাকে সরকার সহায়তা করেন তাহলে অন্তত কিছু ওষুধ কিনে খেতে পারব।










