পটিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তৈল জাতীয় ফসল সরিষা চাষ। সরিষা চাষ লাভবান হওয়ায় কৃষক এবং চাষিরাও দিন দিন ঝুঁকছে এ ফসল চাষাবাদে। যার ফলে গত ২০২৪–২৫ সনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হলেও, চলতি ২০২৫–২৬ সনে এ চাষের আওতা বেড়ে হয়েছে ১৪৫ হেক্টর জমিতে। আগামী ২০২৬–২০২৭ সনে ১৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়।
জানা যায়, চলতি বছর পটিয়া পৌরসভা ছাড়াও কেলিশহর, হাইদগাঁও, ধলঘাট, দক্ষিণ ভুর্ষি, ভাটিখাইন, কচুয়াই, খরনা, শোভনদন্ডী, জঙ্গলখাইন, হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নে সরিষা আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বারি সরিষা–১৪, বিনা সরিষা–৯,১১ জাতের সরিষা আবাদ করা হয়।
কচুয়াই ইউনিয়নের কৃষক আবু সিদ্দিক জানান, গত বছর ২০ শত জমিতে সরিষা চাষ করে ৫০ কেজি সরিষা পাওয়া গেছে। এগুলো মাড়াই করে ২০লিটার সরিষার তৈল পাওয়া যায়। দেশীয় সরিষাগুলো খুবই মানসম্মত। যার ফলে স্বাস্থ্য সম্মত সরিষা তৈলগুলো আমাদের দৈনন্দিন রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পেরেছি। এছাড়াও সরিষা মাড়াইয়ে যে খৈলগুলো পাওয়া যায় তাও মাছ চাষ ও সবজি চাষে উন্নত মানের জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করা যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস উদ্বুদ্ধ করায় আমরা সরিষা চাষে এগিয়ে এসেছি। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সার ও বীজ দিয়ে চাষাবাদে সহায়তা করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের কৃষক মো. আলী হাসান জানান, গত কয়েক বছর ধরে সরিষার চাষ করে আসছি। চলতি বছর ৩৬ শতক জায়গায় সরিষা চাষ করেছি। ফলনও ভালো। তবে এলাকায় স্লুইচ গেটের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ায় খালের লবণ পানি ঢুকার আশংকা রয়েছে। এ লবণ পানি জমিতে ঢুকলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান জানান, তৈল জাতীয় এ ফসলটি এক সময় সম্পূর্ণভাবে বর্হিবিশ্বের উপর নির্ভরশীল ছিল। সরকারী নানাবিধ উদ্যোগের ফলে এ ফসলটি এখন দেশে ব্যাপকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে। আমন ও বোরো চাষের মাঝামাঝি হওয়ায় কৃষক ও চাষীদের জন্যও এটা একটা ভাল ও লাভবান ফসল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। যার ফলে কৃষকদের মাঝেও সরিষা চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। দেশে সরিষা চাষের ফলে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অর্থ দেশেই দেশেই কাজে আসছে।











