পটিয়ায় বিলে মহিষ চড়ানো নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক কিশোরকে গলা চেপে নৃশৃংসভাবে খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাড়ির অদূরে মহিষ চারণভূমি থেকে গতকাল রোববার রাতে মো: হাসান বাবু (১৬) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পরে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সে শোভনদন্ডী ইউনিয়নের কুরাঙ্গগিরি গ্রামের মো: আমিনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী হাছিনা আকতারের একমাত্র ছেলে।
রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের কুরাঙ্গগিরি গ্রামের (৯ নম্বর ওয়ার্ডের) বিলের মধ্যে চৈতার মার খালের ঢালে।
এ ঘটনায় মামলার অভিযুক্ত প্রধান আসামি মো: লিমন (২০) কে একইদিন রাত ১২টার দিকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার লিমন একই বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে। আমিনুল হক ও আবুল কাসেম দুইজনেই একে অপরের আপন বেয়াই সর্ম্পক বলে এলাকাবাসী জানান। সে আজ সোমবার আদালতে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচদিন যাবৎ তাদের গ্রামের জনৈক ফোরকান নামের এক ব্যাক্তির মহিষ পাশ্ববর্তী চারণভূমিতে লালন পালন করে বসছিল হাসান বাবু। তাই প্রতিদিনের মত রোববার (১৫ মার্চ) সকাল প্রায় ৭টার দিকে ১১টি মহিষ নিয়ে কুরাঙ্গগিরি গ্রামের চৈতার মার খালের নিকটবর্তী বিলের মধ্যে ঘাস খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে হাসান বাবু মাঠে মহিষ রেখে ঘরে এসে ভাত খেয়ে সে আবার মাঠে চলে যায়।
পরে সন্ধ্যা প্রায় ৬টা হয়ে গেলেও সে ঘরে না আসায় তার মা’সহ আশপাশের লোকজনও নিকট আত্মীয় স্বজনরা তার ছেলে হাসান বাবুকে বিভিন্ন জায়াগায় খোঁজাখুজি করতে থাকে।
একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুরাঙ্গগিরি এলাকার চৈতার মার খালের ঢালের মধ্যে ছেলে হাসান বাবুর শরীরে মাটি, নাক, মুখে রক্ত মাখা ও গলায় একাধিক নখের জখম অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখে।
তখন তাদের শোর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তাদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ জানায় পরে রাত ৯টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, মোহাম্মদ লিমন ও এজারনামীয়সহ অজ্ঞতনামাদের সাথে দীর্ঘদিন যাবত তাদের পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল।
এর আগে তারা বাদীনি হাছিনা আকতার ও তার ছেলে হাসান বাবুকে একাধিকবার মারধরসহ হত্যার হুমকী প্রদান করে। এ নিয়ে একাধিকবার শালিশ বৈঠক করলেও আসামীরা বাদীনি তার ছেলেকে যেকোনা স্থানে একা পেলে হত্যা করে লাশ ঘুমের হুমকি দেন।
পরিবারের ধারণা পূর্ব বিরোধের জের ধরে তারা হাসান বাবুকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে একা পেয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে আসামীরা পালিয়ে যায়।
পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউল হক বলেন, এই ঘটনায় ওইদিন রাত ১২টার দিকে হাসন বাবুর মা হাছিনা আকতার (৪৭) বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে একই বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে মো: লিমন (২০) সহ ৫জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞতনামার আরও ২-৩জনকে আসামী করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামী মো: লিমনকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।












