পটিয়ায় একের পর একটি গরু খামারে সশস্ত্র দুর্বত্তরা হানা দিয়ে বড় বড় সব গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন খামারিরা। যার ফলে মূল্যবান গবাদি পশু হারিয়ে উদীয়মান এ শিল্পে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক খামারি। গত ৩-৪ মাসেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১২০টির অধিক ২ কোটি টাকা মূল্যের গরু ‘ডাকাতি’ হয়েছে বলে জানান তারা। এ সব ঘটনায় দুইটি মামলা হলেও এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না বলে জানান খামার মালিকরা। গতকাল শনিবার দুপুরে পটিয়ার একটি রেস্তোরাঁয় ‘পটিয়া ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশন’র ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান ভুক্তভোগী খামার মালিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাসেল। আরো বক্তব্য রাখেন খামারি মো: কফিল উদ্দিন, শফিউল আলম মনির, ফারহানা ইয়াছমিন, মো: হারুন, মো: আবু ছিদ্দিক, হাসিনা আকতার, সালাউদ্দিন আকিব, নাজমুল হক, শফিকুল ইসলাম মানিক প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩-৪ মাসে পটিয়া ডেইরি এসোসিয়েশনের সদস্য ও খামারি মো: ইউনুছের ২টি, মোহাম্মদ হাসানের ৩টি মহিষ, মো: নেজামের ১টি গরু, মো: রাসেলের ৭টি গরু, মো: সামশুল হকের ৪টি গরু, মো: নাছির উদ্দিনের ৫টি গরুসহ অর্ধশতাধিক খামারির দুই কোটি টাকা মূল্যের ১২০টির অধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা না পাননি বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা। খামারের দারোয়ান ও নাইট গার্ডকে হাত-পা বেঁধে ও মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে গরু চুরি করা হচ্ছে।
খামার মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, ‘গরু চুরির পর থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, খামার করা বাদ দিয়ে রিকশা চালান। এ ভাবে প্রশাসন থেকে আমরা অসহযোগিতা পাচ্ছি। তাছাড়া পুলিশ আসামি ধরে না। সশস্ত্র ডাকাতির কথা বলা হলেও অভিযোগে তা বাদ দেয়া হয়। উপজেলার ধলঘাট, জঙ্গলখাইন, কাশিয়াইশ, বড়লিয়া, হাইদগাঁও ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত গরু চুরির ঘটনা ঘটছে।’
খামারিরা আরো জানান, ‘বর্তমানে ডেইরি খামারিরা চরম বিপদে আছেন। গো খাদ্যের দাম ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা হয়েছে। খামারিরা এমনিতেই খরচ পোষাতে হিমশিম খাচ্ছেন এর উপর সংঘবদ্ধ সশস্ত্র চক্র খামারে হানা দিয়ে কাভার্ড ভ্যান, পিকাআপে করে গরু মহিষ ‘ডাকাতি’ করে নিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে হুইপ, পুলিশের এস.পি, ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ওসি, উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন খামারিরা।












