পটিয়ায় তরমুজ চাষে ফিরছে কৃষকরা

চলতি মৌসুমে ৫ হেক্টর জমিতে আবাদ

শফিউল আজম, পটিয়া | শনিবার , ১১ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

৯০’র দশক থেকে ২০০০ সালের প্রথম দিকে পটিয়া পৌরসভা ও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তরমুজের চাষাবাদ ছিল খুবই জনপ্রিয়। তখন এ তরমুজের চাষ নিয়ে কৃষক ও মৌসুমি চাষিদের মাঝে চলতো এক ধরনের প্রতিযোগিতাও। তরমুজের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষক ও মৌসুমি চাষিরা বাঙ্গি ও খিরা চাষে মৌসুমজুড়েই বেশ মেতে উঠতো। তখন পটিয়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ২২টি ইউনিয়ন জুড়েই মাঠের পর মাঠ তরমুজ চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ওই সময় পটিয়ায় উৎপাদিত তরমুজ চট্টগ্রাম নগরী ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম পেরিয়ে সৈকত নগরী কক্সবাজার এলাকার বাজারও সয়লাভ হতো।

চলতি বছর পটিয়া উপজেলার কেলিশহর, হাইদগাও, কচুয়াই ও খরনা উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করে চাষীরা। এ বছর কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শে কৃষকরা বাংলা লিংক, গ্লোরি, গ্লোরি জাম্বু জাতের তরমুজ চাষ করেন বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান।

৯০’র দশকে শিয়াল ও চোরের উৎপাত ঠেকাতে এসব তরমুজ বাঙ্গি এবং খিরা চাষিরা জমির মধ্যে অস্থায়ী ‘টং’ নির্মাণ করে রাত্রী যাপন করতো। এসব টংএর মধ্যে পুরো রাতজুড়েই হারিকেন বা আলোর ফোয়ারা জ্বালিয়ে রাখা হতো। আবার অনেকে অস্থায়ী বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ দিয়ে জমি আলোকিত করে রাখতো। তখন রাত জুড়েই এসব ‘টং’ থেকে বিভিন্ন টিনের পাত্রে শব্দ করে কৃষকদের উপস্থিতি জানান দিয়ে শিয়াল ও চোরদের সতর্ক করার ব্যবস্থা রাখতো কৃষকরা। চলতি মৌসুমে পটিয়া উপজেলায় কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগরি পরামর্শে প্রায় ৫ হেক্টরের মত জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। চলতি বছর তরমুজ চাষ করে কৃষকরা খুবই আশাবাদী। দীর্ঘদিন পর মাঠে নেমে চলতি বছর ৫ হেক্টর জমিতে কৃষকরা তরমুজ চাষ করে সফলতা পাওয়ায় আগামী বছর তরমুজের আবাদ আরো বাড়বে বলে আশাবাদ কৃষক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের।

স্থানীয় কৃষক ও চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চাষাবাদে বাড়তি খরচ, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, সেচ সংকট এবং নানা রোগব্যাধির কারণে ৯০’র দশক থেকে ২০০০ সালের শেষ দিকে এসে তরমুজ চাষের জৌলুস হারিয়ে চাষাবাদে নেমে আসে ভাটা। সেই ভাটার টানেই দীর্ঘ ২৫২৬ বছর ধরে পুরো পটিয়া জুড়েই তরমুজ চাষ নেই বললেই চলে। তবে প্রতি মৌসুমে কয়েকটি উপজেলায় বাঙ্গি ও খিরার চাষ করা হলেও, তা তুলনামূলক খুবই কম ও নগণ্য।

কেলিশহর ইউনিয়নের কৃষক বাবুল কুমার দে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তরমুজ চাষ বন্ধই ছিল বলা যায়। এবার কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রায় ৫ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করে বেশ সুফল পাওয়া গেছে। আগামীতে আরো চাষাবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কচুয়াই ইউনিয়নের তরমুজ চাষী আবদুল মান্না জানান, তরমুজ একটি সুমিষ্ট মৌসুমি ফল। এ ফল যেমন জনপ্রিয়, তেমনি সুস্বাদুও। আমরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে নতুন করে চলতি বছর চাষাবাদ শুরু করেছি। কৃষি বিভাগের এ সহায়তা ও পরামর্শ আগামীতেও ধারাবাহিকভাবে পেলে আমরা তরমুজ চাষ চালিয়ে যাব। চলতি বছর ফলন ভাল পাওয়া গেছে।

পটিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কল্পনা রহমান জানান, পটিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে তরমুজ চাষ নেই বললেই চলে। তবে এবার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পটিয়ার কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শে ৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করে কৃষকরা সফলতা পেয়েছে। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। আশাকরি আগামী বছর চাষাবাদ আরো বৃদ্ধির পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা চাষাবাদের আওতায় আসবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‘মুসলিম উম্মাহর মূল শক্তি হলো পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব’
পরবর্তী নিবন্ধট্রাক থেকে পড়ছে মাটি, বৃষ্টিতে সড়কে কাদার প্রলেপ