পটিয়ায় একটি ভবনের ওপর হেলে পড়েছে নির্মাণাধীন ভবন

ভাড়াটিয়ারা আতংকে

পটিয়া প্রতিনিধি | শনিবার , ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ

পটিয়া পৌরসভার আরাকান সড়ক সংলগ্ন এলাকায় পৌরসভার নকশা এবং সয়েল টেস্ট উপেক্ষা করে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে পাশের একটি ভবনের ওপর নতুন বহুতল নির্মাণাধীন ভবন হেলে পড়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে পটিয়া পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইওএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আরকান সড়কের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের সামনে অবস্থিত এম এস টাওয়ারের পাশেই মনির টাওয়ার নামের একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এম এস টাওয়ারের মালিক প্রবাসে অবস্থান করলেও তার পিতা সামশুল আলম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, অনুমোদিত নকশা ও নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণের ফলে মনির টাওয়ারটি তাদের ভবনের ওপর হেলে পড়েছে।

সামশুল আলম জানান, ভবনের মালিক, প্রকৌশলী ও নির্মাণকর্মীদের একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও তারা তড়িঘড়ি করে কাজ চালিয়ে যান। হেলে পড়ার বিষয়টি আড়াল করতে সম্প্রতি কিছু অংশ কেটে ফেলা হলেও এখনো যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দ্রুত সরজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, তারা হেলে পড়ার বিষয়টি ঢাকতে এবং লুকোচুরি করতে তাদের ছাদের হেলে পড়া অংশ প্রায় ৬ ইঞ্চি পরিমাণ গ্রান্ডার মেশিন দিয়ে কেটে দেয়। এরপরও দিন দিন ভবনটি আমাদের ভবনের উপর হেলে পড়েছে। যার ফলে আমাদের ভবনের একটি ব্যাংক, ডাক্তারের চেম্বার ও ভাড়াটিয়ারা আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যেকোনো সময় এটি আমাদের ভবনে হেলে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটনার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেলে পড়া মনির টাওয়ারের মালিক মনির হোসেনের খালাত ভাই পরিচয়দানকারী মোহাম্মদ দিদার জানান, বিল্ডিং এর মালিক বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। বিল্ডিং সামান্য হেলে পড়েছে স্বীকার করে তিনি জানান, আমরা পৌরকর্তৃপক্ষ থেকে পাঁচতলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে পাঁচতলাই নির্মাণ করেছি। অপরপক্ষে পার্শ্ববর্তী এম এস টাওয়ার পাঁচতলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে বাড়তি তলার কাজ করছে। তাদের অনিয়মগুলোও ধরতে হবে।

এদিকে স্থানীয়রা বলেন, এত ছোট জায়গায় পৌরসভা কিভাবে বহুতল ভবন অনুমোদন দিতে পারে? এখন ঝঁকিপূর্ণভাবে ভবনটি হেলে পড়ায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। এর দায় কি পৌরকর্তৃপক্ষ এড়াতে পারবেএমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন স্থানীয়রা।

জানতে চাইলে পটিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান খন্দকার বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে কয়েকদিনের মধ্যে সরজমিনে গিয়ে দেখে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইওএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসৈয়দ শফিউল বশর মাইজভাণ্ডারীর ১০৭তম খোশরোজ সম্পন্ন
পরবর্তী নিবন্ধইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন গঠন