অনেক ঘটনার পর একদিন বন্ধ থেকে বিপিএল আবার শুরু হয়েছে। দিনের প্রথম ম্যাচে গতকাল শুক্রবার নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে হারিয়ে শীর্ষ দুইয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। বাঁ–হাতি পেসার শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস ৫ উইকেটে হারায় নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে। এই জয়ে ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট পেয়েছে চট্টগ্রাম। তবে আগেই প্লে–অফ নিশ্চিত করেছিল তারা। অন্যদিকে এই হারের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে নতুন দল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের পাশাপাশি বিপিএলের ইতিহাসে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রান দিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের নয়া রেকর্ড গড়েন শরিফুল ইসলাম। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯ বলে ৩৪ রানের সূচনা করেন নোয়াখালীর দুই ওপেনার হাসান ইসাখিল ও সৌম্য সরকার। পাওয়ার প্লেতে দলীয় ৪৯ রানের মধ্যে বিদায় নেন উভয়েই। ইসাখিল ২০ বলে ২টি করে চার–ছক্কায় ২৫ এবং সৌম্য ৮ বলে ১৪ রান করেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে ৯১ রানে ষষ্ঠ ব্যাটারকে হারায় নোয়াখালী। শেষ দিকে নোয়াখালীর শেষ ৪ উইকেট শিকার করেন শরিফুল। এতে ১৮ দশমিক ৫ ওভারে ১২৬ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। সাব্বির হোসেনের ২২ রানের সুবাদে সম্মানজনক সংগ্রহ পায় নোয়াখালী। ৩ দশমিক ৫ ওভার বল করে ৯ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন শরিফুল।
১৫২ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেলেন তিনি। বিপিএলের ইতিহাসে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন শরিফুল। আগে রেকর্ডটি ছিল আবু হায়দার রনির। ২০১৪ সালে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ১২ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। এছাড়া এই ইনিংসে চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান ১২ রানে ৩ উইকেট নেন।
১২৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২৯ রানে ৪ উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। পঞ্চম উইকেটে ৩৩ বলে ৪০ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন অধিনায়ক শেখ মেহেদি ও হাসান নাওয়াজ।
দলীয় ৬৯ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে সাজঘরে ফেরেন হাসান (১১)। এরপর ক্রিজে শেখ মেহেদির সঙ্গী হন আসিফ আলি। ষষ্ঠ উইকেটে ৪৫ বলে ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ৩ ওভার বাকী থাকতে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন শেখ মেহেদি–আসিফ। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৬ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন অধিনায়ক শেখ মেহেদি। ২টি করে চার–ছক্কায় ৩০ বল খেলে ৩৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন আসিফ। নোয়াখালীর ইহসানুল্লাহ ২ উইকেট শিকার করেন। ম্যাচ সেরা হন চট্টগ্রামের শরিফুল ইসলাম।












