নেপালের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর কাছে ধরাশায়ী কেপি শর্মা অলি

| রবিবার , ৮ মার্চ, ২০২৬ at ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নেপালে দুর্নীতিবিরোধী জেনজি বিক্ষোভের সাড়ে ছয় মাস পর হওয়া সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে র‌্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া কাঠমাণ্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বিশাল ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো থেকে এগিয়ে আছে। গতকাল শনিবার রাতে দেশটির নির্বাচন কমিশন নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ২৭৫ আসনের মধ্যে ৮৩টির ফল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত সর্বশেষ ফল অনুযায়ী, আরএসপি ৭১টি আসনে জয় পেয়েছে। ১০টি আসনে জয় নিয়ে তাদের পরে আছে নেপালি কংগ্রেস পার্টি। আর কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (সিপিএনইউএমএল) ৩টি, নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ২টি, রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি ১টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি আসনে জয় পেয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের শুধু ১৬৫টি আসনে প্রত্যক্ষ নির্বাচন হয়। সংখ্যানুপাত পদ্ধতিতে বাকি ১১০টি আসন দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজের।

হিমালয়ান টাইমস জানিয়েছে, যাদের জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই আরএসপির প্রার্থী আর তারা প্রায় সবাই বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। ৫ মার্চের এই নির্বাচনে সবচেয়ে নাটকীয় ফল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কোশী প্রদেশের ঝাপা জেলার ঝাপা৫ আসনের ফলাফলকে। এই আসনে আরএসপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী বালেন্দ্র শাহ দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সিপিএনইউএমএল এর চেয়ারম্যান কেপি শর্মা অলিকে ৪৯৬১৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শাহ পেয়েছেন ৬৮৩৪৮ ভোট আর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি পেয়েছেন ১৮৭৩৪ ভোট। হিমালয়ান টাইমস লিখেছে, এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে নিজ দুর্গে পরাজিত নেপালের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব কেপি শর্মা অলির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেল।

অলি দুইবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কয়েক দশক ধরে সিপিএনইউএমএল নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ৭৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ রাজনীতিক অলি পরাজিত হলেন মাত্র ৩৫ বছর বয়সী নবীন রাজনীতিক বালেন্দ্র শাহর কাছে, যিনি বালেন নামেই বেশি পরিচিত।

বালেন প্রতিষ্ঠানবিরোধী মঞ্চের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালের রাজনীতিকে নতুন রূপ দেওয়া জেনজি আন্দোলনের ঢেউয়ে সওয়ার হয়ে দেশটির নতুন নেতা হয়ে উঠেছেন। এই জয় বালেনের জন্য গভীরভাবে ব্যক্তিগতও ছিল। তিনি অলিকে পরাজিত করার পরিষ্কার উদ্দেশ্য নিয়ে ঝাপা৫ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। এতে এই আসনটি নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময় ধরে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসংস্কার শেষে নতুন রূপ পেল কোর্টহিলের ‘জিরো পয়েন্ট’ উদ্বোধন করলেন ডিসি
পরবর্তী নিবন্ধআজিজ নগর বনবিভাগের বুক চিরে সড়ক নির্মাণ