নেতানিয়াহুকে ‘জীবন্ত প্রমাণ করতে’ কেন পর পর ভুয়া ভিডিও

প্রশ্ন পুত্রের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও

| বৃহস্পতিবার , ১৯ মার্চ, ২০২৬ at ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ

গত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে বহু জল্পনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। এমন জল্পনার কারণ প্রকাশ্যে আসা একাধিক ভিডিও। নেতানিয়াহুর ওই ভিডিওগুলি পর পর পোস্ট হওয়ার কারণেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে মানুষের মনে। দাবি উঠেছে, ওই ভিডিওগুলোতে নেতানিয়াহুকে জোর করে জীবিত দেখানোর চেষ্টা চলছে। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।

কিন্তু ওই ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় নেতানিয়াহু? পাশাপাশি জল্পনা ছড়িয়েছে, তিনি আর বেঁচে নেই। বলা হচ্ছে, সেই খবর যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তাই ওই সব ভিডিওর মাধ্যমে তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা করছে ইসরায়েল।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর গত কয়েক দিন ধরে দাবি উঠেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন নেতানিয়াহু। তার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পর পর পোস্ট হওয়া ওই ভিডিওগুলো তার মৃত্যুজল্পনার পালে হাওয়া দিয়েছে। দাবি উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জীবিত থাকার প্রমাণ হিসাবে একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এনে তার মৃত্যু সংক্রান্ত দাবিগুলি খণ্ডন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে ইসরায়েল। তবে সেই ভিডিও ক্লিপগুলো জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটানোর পরিবর্তে নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। প্রথমে ১৩ মার্চ, পরে ১৫ মার্চ নেতানিয়াহুর একটি করে ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ১৫ মার্চের ভিডিওতে তাকে একটি কফি কাপ হাতে বক্তৃতা করতে দেখা যায়। সেই ভিডিওতে তার মৃত্যুর খবর গুজব বলেও দাবি করতে দেখা যায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে। ১৫ মার্চের সেই ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে কফির কাপ হাতে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘কফির জন্য আমি মরতে রাজি। আমি আমার দেশের মানুষকে ভালোবাসি।’ এর পর তিনি দুই হাতের আঙুল তুলে ক্যামেরায় দেখাতে শুরু করেন। কারণ ১৩ মার্চ ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন সূত্রে দাবি উঠেছিল যে নেতানিয়াহুর ডান হাতে ৬টি আঙুল রয়েছে। কিন্তু সেই ভিডিওতে ডান হাতের ৬টি আঙুল দেখা যায়নি। ১৫ মার্চ যে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল, তাতে দেখা গিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দু’হাতেই পাঁচটি আঙুল। কফি শপে অন্যান্য ক্রেতার সামনে দাঁড়িয়ে ইরানের যুদ্ধ সম্পর্কে কথাও বলতে দেখা গিয়েছিল তাকে। ভিডিওটি ভাইরাল হয়।

তবে ভিডিওটি সমাজমাধ্যম এক্সএ প্রকাশিত হতেই সেটি ভুয়া বলে জল্পনা শুরু হয়। এক এক্স ব্যবহারকারী এক্সের চ্যাটবট গ্রোকের কাছে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেন। সেই প্রশ্নের উত্তরে গ্রোক জানিয়েছে, এটি আসলে কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও। গ্রোক জানিয়েছে, ভিডিওটি ১০০ শতাংশ ডিপফেক। নেতানিয়াহু একটি ক্যাফেতে কফি খাচ্ছেন, বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি। যেহেতু ভিডিওটি নেতানিয়াহুর নিজস্ব সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল, গ্রোকের প্রতিক্রিয়া বিতর্ক আরও উস্কে দেয়।

এর মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয় যে ৭৬ বছর বয়সি ইহুদি নেতা এখনও তেল আবিবেই আছেন। কিন্তু ভিডিওগুলি প্রকাশ্যে আসার পর নেতানিয়াহুর অবস্থান বা নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জল্পনা তৈরি হয়। জল্পনা আরও তীব্র হয় ১৬ মার্চ। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি নতুন ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুজালেমের রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটছেন এবং পথচারীদের সঙ্গে কথা বলছেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই ভিডিওতেও বিস্তর গোলযোগ খুঁজে পান নেটিজেনরা। ভিডিওতে যখনই নেতানিয়াহুর দু’হাত দেখা যাচ্ছিল, তখনই তার হাতে থাকা একটি আংটি বারবার অদৃশ্য এবং দৃশ্যমান হতে দেখা যায়। ফলে সেই ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকাকে কেন্দ্র করে সংশয় আর জল্পনা মিলেমিশে যখন একাকার, ঠিক সেই সময় আবার নেতানিয়াহুর এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেই ভিডিওতে ইরানবাসীদের উদ্দেশে ‘নওরোজ’ উৎসবের শুভেচ্ছাবার্তা দিতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহুর সেই ভিডিও ঘিরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এর কয়েক ঘণ্টা পর এক্স হ্যান্ডল থেকে আরও একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, মৃত্যুজল্পনা উড়িয়ে দিয়ে আবারও তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমি বেঁচে আছি।’ যে ভিডিওটি নেতানিয়াহু প্রকাশ করেছেন, সেখানে তার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে ইসরায়েলে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিকে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু এবং হাকাবি পাশাপাশি হাঁটছেন। খুব হালকা চালে কথা বলছেন তারা দু’জনে। তবে এই ভিডিওটিও ডিপফেক ব্যবহার করে তৈরি কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এদিকে গত সপ্তাহ থেকে টিভিতে সরাসরি কোনো বার্তা দিতে দেখা যায়নি নেতানিয়াহুকে। আবার নেতানিয়াহুর পুত্র ইয়াইর নেতানিয়াহু সর্বক্ষণ সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। দিনে বহু পোস্ট করেন তিনি। রহস্যজনক ভাবে ইয়াইরও একেবারে চুপ। সমাজমাধ্যমে গত ৯ মার্চ থেকে তিনি নিষ্ক্রিয়। আর সেই বিষয়টিও নেতানিয়াহুর মৃত্যুজল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। এও শোনা যাচ্ছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন নেতানিয়াহু। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি, টানা সাতটি বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি, যা তার স্বাস্থ্য এবং অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয় এবং মৃত্যু নিয়ে দাবিকে গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন। নেতানিয়াহু সুস্থ আছেন বলেই জানাচ্ছেন তারা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামের অর্ধ-শতাধিক গ্রামের কিছু মানুষ ঈদ উদযাপন করবে কাল
পরবর্তী নিবন্ধতেহরানে আলী লারিজানিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানাজায় জনসমুদ্র