নেইমারের বিশেষ উপহার মেসি ও তাঁর তিন ছেলের জন্য

স্পোর্টস ডেস্ক | শুক্রবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ

ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার লিওনেল মেসি ও তাঁর তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও আর চিরোর জন্য ১০ নম্বর জার্সি পাঠিয়েছেন। নেইমারের নাম লেখা সান্তোসের সেই জার্সি হাতে ছবিও তুলেছেন মেসি ও তাঁর দুই ছেলে। নেইমার ও সান্তোসের পক্ষ থেকে উপহার পাঠানোর এই খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি। সান্তোসের এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া পোস্টে লেখা হয়, ‘নেইমার জুনিয়রের পক্ষ থেকে লিওনেল মেসির কাছে। প্রিন্স থেকে জিনিয়াসের উদ্দেশে। রাজার হাতে অমর হয়ে ওঠা সেই পবিত্র অমূল্য জার্সি। ১০ নম্বর মানে নেইমার, ১০ নম্বর মানে মেসি, ১০ নম্বর মানে পেলে। ফুটবলের ইতিহাসে এক চিরন্তন উত্তরাধিকার। ভিলা বেলমিরো থেকে শুভেচ্ছা, লিওনেল মেসি!’ মেসির গায়ে নেইমারের জার্সি এই দৃশ্য আসলে দুজনের এক যুগের পুরোনো বন্ধুত্বের দারুণ এক স্মারক। ২০১৩ সালে নেইমার যখন বার্সেলোনায় যোগ দেন, তখন থেকেই মেসির সঙ্গে তাঁর সখ্য। মাঠে যেমন জমেছিল তাঁদের জুটি, মাঠের বাইরেও দুজনের বন্ধুত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠে একসঙ্গে আটটি শিরোপা জিতেছেন মেসিনেইমার জুটি। এর মধ্যে ২০১৪১৫ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা ও কোপা দেল রের সেই ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ তো ফুটবলপ্রেমীদের মনে আছে। লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে গড়া তাঁদের ‘এমএসএন’ ত্রয়ী তখন ছিল প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের জন্য এক আতঙ্কের নাম। ২০১৭ সালে নেইমার রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে পিএসজিতে চলে গেলে এই জুটির বিচ্ছেদ ঘটে। তবে ক্লাব আলাদা হলেও তাঁদের হৃদয়ের টান কমেনি। প্রায়ই তাঁদের একসঙ্গে ছুটি কাটাতে দেখা যেত। এরপর ২০২১ সালে মেসি পিএসজিতে যোগ দিলে আবারও এক হন দুই বন্ধু। তবে ২০২৩ সালে মেসি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে, আর নেইমার বেছে নেন সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল। চোটের কবলে পড়ে প্রায় ১৩ মাস আগে নেইমার অবশ্য পরে ফিরে যান তাঁর শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। বর্তমানে নেইমারের লক্ষ্য আবার সেরা ফর্মে ফিরে আসা এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে আগামী বিশ্বকাপে খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। এদিকে মেসি এখনো মায়ামিতেই জাদু দেখাচ্ছেন। দুজনের আবারও একই ক্লাবে খেলার গুঞ্জন মাঝেমধ্যে শোনা গেলেও আপাতত তা গুঞ্জনেই সীমাবদ্ধ। মেসির পরিবারের প্রতি এই উপহার তাদের বন্ধুত্বের দৃঢ়তা এবং ফুটবলের ঐতিহ্যের প্রতি সম্মানেরই এক সুন্দর নিদর্শন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসৈয়দ মুজতবা আলী বাংলাসাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র
পরবর্তী নিবন্ধএশিয়ান কাপের স্কোয়াডে সুইডেনপ্রবাসী আনিকা