ঈদযাত্রার পথে ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস বগুড়ায় লাইনচ্যুত হয়ে অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে বগুড়ার সান্তাহার উপজেলার তিলকপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনার পর থেকে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকা রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে; বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরা পড়েছেন দুর্ভোগে। সান্তাহার রেলওয়ে থানার এসআই মাহফুজুর রহমান জানান, নীলসাগর এক্সপ্রেস বেলা ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে থামে। সান্তাহার স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কিছু সময় পর ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। তাতে ট্রেনের ৯টি বগি লাইন থেকে বেরিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই হুড়োহুড়ি করে নামার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন জানিয়ে পাকশী রেলওয়ে জেলার এসপি মেহেদী হাসান বলেন, আহতদের বেশিরভাগই ছাদের যাত্রী। তাদের আদমদীঘী ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় ও উত্তরবঙ্গের ৫ জেলা নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। লাইনচ্যুত বগি সরিয়ে নিতে ঈশ্বরদী জংশন থেকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে উদ্ধারকারী ট্রেন।
স্থানীয়রা বলছেন, বেলা পৌনে ২টার দিকে রেললাইনে মেরামতের কাজ চলছিল। সেজন্য লাল পতাকা টানানো ছিল এবং সিগন্যালও দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রেনটি সেই সিগন্যাল অমান্য করে আসায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সান্তাহারের স্টেশন মাস্টার খাদিজা খানম বলেন, ঘটনাস্থলে লাল পতাকা লাগিয়ে লাইন মেরামতের কাজ চলছিল। তখনই ট্রেন ঢুকে পড়লে দুর্ঘটনা ঘটে। এখন রেল চলাচল বন্ধ আছে।
তদন্তে চার সদস্যের কমিটি : ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, রেলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যন্ত্র প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান সংকেত প্রকৌশলী।









