নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ চবিতে দুদকের তদন্ত দল

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে

| বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:২০ পূর্বাহ্ণ

নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চলমান আন্দোলনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অনুসন্ধান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বুধবার বেলা ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে রেজিস্ট্রারের কক্ষে যায় দুদকের তিন সদস্যের একটি দল। নেতৃত্বে ছিলেন দুদকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম। খবর বিডিনিউজের।

রেজিস্ট্রার দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় মোট ১১৩ জনের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২১ জন শিক্ষক, ৩৭ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, ৪৭ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং আটজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় শিক্ষক পদে উপউপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামিম রয়েছেন। এছাড়া রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের ভাই মোহাম্মদ আবদুল কাউয়ুম নিয়োগ পেয়েছেন চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ পদে।

এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতারা। অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদলও। তাদের এ আন্দোলনের মধ্যে গতকাল বুধবার ক্যাম্পাসে আসেন দুদকের তিন কর্মকর্তা। তদন্ত কাজ শেষে ব্রিফিংয়ে এসে সায়েদ আলম বলেন, ‘উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতারের আমলে গত দেড় বছরে প্রায় ২৫০ জনের মত নিয়োগ পেয়েছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আমাদের এ অভিযান।’ তিনি বলেন, ফার্সি, ফিন্যান্স এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগে শিক্ষকদের আত্মীয়দের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ নিয়োগেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। আমরা নথিপত্র পর্যালোচনা করছি। ফার্সি বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ ছিল না বলে প্রাথমিক রেকর্ডে দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের দেখিয়েছে, প্ল্যানিং কমিটির সুপারি ছাড়াও কীভাবে নিয়োগ দেওয়া যায়। তবে নম্বর শিট না পাওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বৈধ ছিল কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’

দুদকের এ কর্মকর্তা বলেন, ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় হওয়া নিয়োগগুলোর রেকর্ডপত্রও যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হবে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সিন্ডিকেটে ১৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সব নিয়োগ নতুন নয়, কিছু স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। মোট কতজন নিয়োগ হয়েছে, তা রেকর্ড দেখে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে। তবে শিক্ষক কর্মকর্তাকর্মচারীসহ এ সংখ্যা ১৫০ জনের মতো। তিনি বলেন, উপাচার্য ক্যাম্পাসে নেই, তিনি ফেরার পর আরও কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করা হবে। এরপরই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব হবে। উপউপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘দুদক আমাদের কাগজপত্র পর্যালোচনা করছে। তারা কি রিপোর্ট দেবে সেটা তাদের বিষয়। তবে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো অনিয়ম হয়েছে বলে মনে হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। নাট্যকলা, সংগীত ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে আজ পর্যন্ত কোনো স্টাফ নেই। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দিলে এসব বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এসব বিষয় সমাধানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধলোহাগাড়া ও আনোয়ারায় তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
পরবর্তী নিবন্ধনির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে, একদিন আগেও নয়-পরেও নয়