নিয়মিত রাজস্ব আদায় হলেও নেই কোনো সংস্কার, পারাপারে ঝুঁকি

কর্ণফুলীতে চসিকের মাতব্বর ঘাট

মো. মহিউদ্দিন, কর্ণফুলী | বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ১১ নম্বর মাতব্বর নৌঘাট দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি। ঘাটটির পন্টুন ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে যাত্রী ও মাঝিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০২৫ সালে (বাংলা ১৪৩২) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় সল্টগোলা পান্নি সমিতির পক্ষে ঘাটটি ইজারা নেন মো. নেজাম উদ্দিন। বর্তমানে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ তিনটি ইঞ্জিনচালিত লাইফবোট দিয়ে যাত্রী পারাপার করছে এবং জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, নৌকার ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন। শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য এটি বিশেষভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে একাধিকবার দুর্ঘটনার উপক্রম হয়েছে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন অনেকে। সরেজমিনে ঘাটের নড়বড়ে অবস্থা এবং ভাঙাচোরা পল্টনের চিত্রও স্পষ্ট দেখা গেছে।

স্থানীয় লোকজন, মাঝি এবং ইজারাদারদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন নিয়মিত বিপুল রাজস্ব আদায় করলেও ঘাটের কোনো উন্নয়ন বা সংস্কার করে না। বরং সংস্কারের জন্য একাধিকবার চিঠি দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

লাইফবোট তদারকির দায়িত্বে থাকা লালু সওদাগর বলেন, ঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে যাত্রীরা আমাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। অথচ এটি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে না। শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসের ভাষায়, প্রতিদিন এই ঘাট ব্যবহার করতে হয়। বোটে উঠার সময় মনে হয়এই বুঝি পড়ে গেলাম। গার্মেন্টসকর্মী সেলিনা বেগম বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। কিন্তু উন্নয়নের কোনো চিহ্ন নেইশুধু ভাড়া নেওয়া হয়।

ইজারাদারের প্রতিনিধি মো. ফারুক জানান, তারা নিজ উদ্যোগে কয়েকবার মেরামতের চেষ্টা করলেও তা টেকসই হয়নি। সিটি করপোরেশনকে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, বিষয়টি আগে নজরে আসেনি। যেহেতু এটি সিটি করপোরেশনের আওতাধীন, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ১১ নভেম্বর তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এই ঘাট উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে স্থায়ী কোনো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবড় কোম্পানিগুলোর কর ফাঁকি বন্ধে সরকার তৎপর : অর্থমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধসদারঙ্গের দ্বিমাসিক শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান কাল