নিলামের পণ্য কেনার পরও খালাস করতে বিডারদের গড়িমসি

নভেম্বরের আগের পণ্য খালাস করতে আল্টিমেটাম চট্টগ্রাম কাস্টমসের গণবিজ্ঞপ্তি জারি

জাহেদুল কবির | বুধবার , ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নিলামের পণ্য বিক্রয় অনুমোদন হওয়ার পরও অনেক বিডার (নিলামে অংশগ্রহণকারী) খালাস করতে চান না। ফলে এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরের ইয়ার্ডে পড়ে থাকে। অথচ নিলামে একজন বিডার সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ার পরে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তার অনুকূলে বিক্রয় আদেশ জারি করেন। নিয়ম মতে, পণ্যের মূল্য, ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধ করে বিডারদের যথাসময়ে পণ্য খালাস করার কথা। কিন্তু তাদের অনীহার কারণে যে উদ্দেশ্যে পণ্য দ্রুত নিলামে তোলা হয় তা ব্যাহত হচ্ছে। কারণ দ্রুত নিলামের মাধ্যমে বন্দরের কন্টেনার ইয়ার্ড খালি করার নির্দেশনা রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)

এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. ইমরান হোসেন স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বরের আগে বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিলামের মাধ্যমে অনুমোদিত যে সকল পণ্যের বিডারগণ শর্তপূরণ সাপেক্ষে পণ্যচালান খালাস করেননি, তাদেরকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সকল আইনগত, বিধিবদ্ধ ও আর্থিক শর্ত পূরণপূর্বক এবং প্রযোজ্য অন্যান্য শর্তাবলি পরিপালন সাপেক্ষে বিডমূল্য, ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধপূর্বক সংশ্লিষ্ট পণ্যচালান খালাস গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণে নিলামের শর্তানুযায়ী আমানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। এছাড়া যে সকল পণ্যচালান বিভিন্ন টেন্ডার সেলে অন্তর্ভুক্ত হলেও নিষ্পত্তি হয়নি, সে সকল পণ্যচালান সংশ্লিষ্ট বিডারগণ খালাসে আগ্রহী হলে অথবা কোনো ধরনের যুক্তিসঙ্গত দাবি বা আপত্তি থাকলে জরুরি ভিত্তিতে নিলাম শাখায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দাখিলকৃত জামানত বা পেঅর্ডার ফেরতের জন্য লট নম্বর উল্লেখপূর্বক প্রয়োজনীয় দলিলাদিসহ আবেদন করার পরামর্শ প্রদান করা হলো। অপরদিকে যে সকল পণ্য সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালের মামলায় স্থগিতাদেশ বা নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান রয়েছে, সে সকল পণ্যের বিষয়েও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিলাম শাখাকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যদি কোনো বিডার পণ্যচালান খালাস গ্রহণ অথবা দাবি বা আপত্তি জানাতে ব্যর্থ হন, তবে কাস্টমস আইন, ২০২৩, নিলামের স্থায়ী আদেশ নং৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩, তারিখ : ০১/০৭/২০২৫ খ্রি. এবং নিলামের বিশেষ আদেশ নং৮২/২০২৫/কাস্টমস, তারিখ : ১৪ মে ২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে কোনো দাবি বা আপত্তি গ্রহণ করা হবে না। রাজস্ব সুরক্ষা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬৬এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো।

উল্লেখ্য, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। এ সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় জব্দ পণ্যও নিলামে তোলা যায়। মোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করতে পারেনি বন্দর ও কাস্টমস। এতে করে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব কন্টেনার পড়ে থাকে। আমদানি পণ্য যথাসময়ে খালাস না নেয়ায় বন্দরগুলোতে প্রায়ই কন্টেনার জট লাগে। দিনের পর দিন কন্টেনার পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ চার্জ পায় না। অপরদিকে এখন নিলামে পণ্য বিক্রি করার পরও বিডাররা পণ্য খালাস না করায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমহেশখালীর মাতারবাড়িসহ নতুন ৪ থানা অনুমোদন দিয়েছে সরকার
পরবর্তী নিবন্ধসবার আগে ফাইনালে চট্টগ্রাম