বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বললেই সবাই যেন একই বাক্যে পৌঁছে যায় সবাই খারাপ। কিন্তু এই একরৈখিক অভিযোগ যেমন সহজ, তেমনি এটি পুরো সত্য নয়। এই দেশে কিছু ভালো রাজনীতিবিদ আছেন, আছেন কিছু জনপ্রতিনিধি যারা নীরবে কাজ করেছেন, জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এবং ক্ষমতাকে সেবা হিসেবে দেখেছেন। জনগণ তাদের চেনে, মনে রাখে, সম্মানও করে। কিন্তু সমস্যা হলো এই ভালো মানুষগুলো রাজনীতির মূল স্রোতে নয়, তারা প্রায়ই ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রম দিয়ে রাষ্ট্র চলে না; রাষ্ট্র চলে নীতি ও সংস্কৃতির উপর। আর সেই সংস্কৃতিটাই আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ তাই কেবল অভিযোগের নয়, বাছাইয়ের সময়। কে সত্যিই সেবা দিয়েছে, আর কে শুধু পোস্টার–স্লোগানে বেঁচে ছিল এই হিসাব এবার জনগণ চাইবেই। ক্ষমতার রাজনীতিতে অনেকেই জনগণের টাকা দিয়ে নিজের ছবি বড় করেছেন, নিজের বলয় শক্ত করেছেন। আবার কিছু জনপ্রতিনিধি ছিলেন যারা রাস্তা, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, দুর্যোগে পাশে দাঁড়ানো, মানুষের ফোন ধরা এসবকেই রাজনীতি মনে করেছেন। জনগণ এই পার্থক্য বোঝে। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়–
কেন ভালো রাজনীতিবিদরা একা পড়ে যান?
কেন সেবার রাজনীতি প্রভাবের রাজনীতির কাছে হার মানে?
কেন সততা আজও রাজনৈতিক ঝুঁকি?
ধর্ম, পরিচয় ও ভয়ের রাজনীতি দিয়ে ভোট আদায় করা সহজ। কিন্তু রাষ্ট্র গড়া যায় না। যারা বিভাজন তৈরি করে, তারা হয়তো নির্বাচনে জেতে, কিন্তু ভবিষ্যৎ হারায়। জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ হোক একটি স্পষ্ট বার্তা যারা কাজ করেছেন, তাদের পাশে থাকুন। যারা লুটপাটকে রাজনীতি ভেবেছেন, তাদের বিদায় জানান। এবার রাজনীতি হোক সেবার প্রতিযোগিতা। কারণ ভালো রাজনীতিবিদ আছেন বলেই দেশ এখনো দাঁড়িয়ে আছে এবং জনগণ এবার সেই ভালোদেরই শক্তিশালী করতে চায়।












