স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি সন্তোষজনক। তাদের প্রিপারেশন বেশ ভালো। এই প্রিপারেশন অনুযায়ী কাজ এগিয়ে গেলে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, উৎসবমুখর। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী যেখানে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেখানে সেই ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় কোনো অসুবিধার আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, সম্প্রতি যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, তার বেশির ভাগই নিজেদের দলের ভেতরের কোন্দল থেকে সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো অনুষ্ঠানে একজনকে দাওয়াত দিলে দুজন চলে আসে। তখন সিদ্ধান্তের অমিল হলে নিজেরা নিজেরা লেগে যায়। এজন্য জনসচেতনতা খুব জরুরি।
সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে বিজিবির এক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অনেককে ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুয়েকটি আসনে ছোটখাটো লঙ্ঘন হচ্ছে না তা নয়। প্রতিদিনই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের দিন ফেইসবুকে গুজব রটানো ঠেকাতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা হবে কিনা–এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট খোলা থাকবে। কেউ যদি বেআইনিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সবাইকে গুজব ও মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। আপনাদের মুখ একেবারে খোলা। সত্যি কথা প্রকাশ করার জন্যই তো আপনারা। আপনারা যদি সত্য তথ্য প্রকাশ করতে না পারেন জনগণ সঠিক তথ্য পাবে না। তাই আমরা চাই, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করুক, সত্য কথা বলুক।
অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগে কিন্তু এই সুযোগটা ছিল না। তখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত ছিল। এখন যে হারে আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, এইভাবে আগে পারেন নাই। ফেইসবুকের ভিতরে যেসব মিথ্যা সংবাদ ছড়ায়, সেগুলো বন্ধ করার দায়িত্ব শুধু সরকারের না, আপনাদেরও দায়িত্ব আছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে বা লিখতে পারতেন না। সবাই স্বাধীনভাবে লিখবেন, মত প্রকাশ করবেন। আগে সাংবাদিকরাও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে গিয়ে প্রশ্ন করার সাহস পেতেন না। এখন সেই পরিবেশ বদলে গেছে। বর্তমানে যেভাবে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে পারছেন, বর্তমান সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। তবে তিনি একইসঙ্গে সত্য ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
নির্বাচনে নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আপনারা এখানে যেভাবে নিরাপদ, ভোটকেন্দ্রেও নারীরা ঠিক সেভাবেই নিরাপদ থাকবেন। আপনারা সবসময় বলেন, আইনশৃঙ্খলা কন্ট্রোল করি না। দেখেন এখানে আপনারা কয়জন সাংবাদিক। এই কয়জনের কথা বলাটা বন্ধ করতে অনেক সময় লেগে যায়। তো দেশের ১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা অনেক ডিফিকাল্ট কাজ।
এর আগে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার নাজির আহমদ খানসহ আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার–ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।












