জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পরাজিতদের ওপর হামলা করেছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গায় যে দুটি আসনে জয়ী হয়েছে, সেখানে পরাজিতদের ওপর কোনো হামলা হয়নি, বরং তারা একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রেখেছে। অথচ অনেক আসনে বিজয়ীরা জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর চড়াও হচ্ছে। নির্বাচনের পর আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় চরম অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা লক্ষ্য করছি। বিশেষ করে বিজয়ীরা পরাজিতদের ওপর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করছে, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
তিনি গতকাল রোববার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি। সঞ্চালনা করেন মহানগরর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন। উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও চট্টগ্রাম–৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শনিবার ইফতারের পর চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে যে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, তাতে একজন শাহাদাতের পেয়ালা পান করেছেন এবং আরও অনেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। এসময় নির্বাচন পরবর্তী ‘সহিংসতা’ বন্ধ ও রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে, কিন্তু তার আগেই যদি আমরা এই সহিংসতা বন্ধ করতে না পারি, তবে যে ২০–৩০ হাজার তরুণের ক্ষতবিক্ষত দেহ আর জীবনের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছে, তা অপূর্ণ থেকে যাবে। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, এই সব সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, মাহে রমজান থেকে আমরা নিজের জীবন গড়ার শপথ নিবো, সেই সাথে নবনির্বাচিত সরকার ও বিরোধীদল মিলে নতুন বাংলাদেশে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার জন্য এই রমজান থেকে শপথ নিবো। আমরা আশা করছি আগামীর বাংলাদেশ হবে সুখী, সমৃদ্ধ সুন্দর বাংলাদেশ। শাহজাহান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া করি ও স্বাগত জানাচ্ছি। চট্টগ্রামের ১৬ জন সংসদ সদস্য মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে চট্টগ্রামকে সাজাতে চাই। নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ৪১ জন কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনে ১৪ জন মহিলা কাউন্সিলরসহ নির্বাচিত মেয়রের নেতৃত্বেই পরিচালিত হবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। অনির্বাচিত প্রশ্নবিদ্ধ নেতৃত্ব জটিলতাই সৃষ্টি করবে এবং নগরবাসীর নাগরিক সেবা বাধাগ্রস্ত হবে। অবিলম্বে এর অবসান হোক। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইআইইউসি উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী, প্রোভিসি ড. অধ্যাপক হাসমত আলী, পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসানুল্লাহ, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, অধ্যক্ষ নুরুল আমিন চৌধুরী, উত্তর জেলা আমীর মুহাম্মদ আলা উদ্দিন সিকদার, দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. একেএম ফজলুল হক, ডা. সিদ্দিকুর রহমান, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, ছাত্রশিবির মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে শায়খুল হাদীস আল্লামা আলী উসমান, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আব্দুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, বাংলাদেশের নেজাম ইসলাম পাটির মহানগর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি অধ্যাপক খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক পাটির মহানগর সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মহানগর সেক্রেটারি জাফর আহমদ চৌধুরী, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মহানগর আহবায়ক এডভোকেট গোলাম ফারুক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পাটির (বিডিপি) মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক এড. জোবাইর মাহমুদ, লেবার পার্টির মহানগর সহ–সভাপতি মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি আবসার উদ্দিন, দৈনিক কর্ণফুলী পত্রিকার সম্পাদক আলহাজ্ব আফছার উদ্দিন চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মানজারে খোরশেদ, ইঞ্জিনিয়ার মো লোকমান, ডা. জাহাঙ্গীর আলম, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম, এডভোকেট কফিল উদ্দিন, এডভোকেট শামসুল আলম, এডভোকেট কবির আহমদ, ডা. মুহাম্মদ ইউসুপ, সাংবাদিক গোলাম মাওলা মুরাদ, বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন অধ্যাপক লিয়াকত আকতার সিদ্দিকী, মাওলানা মমতাজুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, সাইফুল্লাহ মনসুর।












