নির্বাচনে আসেন, দেখি কার কত দম : শেখ হাসিনা

নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে পরিণতি ভালো হবে না

| শুক্রবার , ২৪ নভেম্বর, ২০২৩ at ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে হুঁশিয়ারি করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভার শুরুতে তিনি একথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপিজামায়াত নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগের শক্তি দেশের জনগণ। ২০১৪ সালে আত্মবিশ্বাস ছিল না বলেই জ্বালাওপোড়াও করে তারা নির্বাচনে আসেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অপবাদ দিলেও কেউ এখন পর্যন্ত অনিয়মের একটি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেনি।’ খবর বিডিনিউজের।

যেসব দল ইতোমধ্যে নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিয়েছে তাদের সাধুবাদ জানিয়ে বিএনপিকেও নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) নির্বাচনে আসুক সেই আহ্বান জানাই। নির্বাচনে আসেন, কার কত দম সেটা আমরা দেখি; জনগণ কাকে চায় সেটা আমরা যাচাই করে দেখি। আসলে নির্বাচনে আসার মত তাদের আস্থাবিশ্বাস নাই। নির্বাচন নিয়ে যারা এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে তাদের বলব আপনারা আসেন নির্বাচনে। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটুকু বলতে পারি এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আমলে প্রত্যেকটা নির্বাচন অবাধনিরপেক্ষ হয়। এবার আমি বারবার নির্দেশনা দিয়েছি জনগণের ভোটের অধিকার, আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব, জনগণের সে অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ করব না। নির্বাচন কমিশন অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে সেটাই আমরা চাই।’

এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার আহ্বান জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশ ও সংস্থাগুলো। নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক আসতে চাইলে সরকারের তরফ থেকেও কোনো আপত্তি নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা নিজেরা আহ্বানকরেছি, যদি পর্যবেক্ষক আসতে চায় আসবে। এখানে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। কারণ আমাদের জনগণের ভোট চুরি করা লাগবে না, জনগণের আস্থাবিশ্বাস আমাদের উপর আছে।’

রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি বলেই বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। এটাকে ধ্বংস করার জন্য তাদের নানা প্রক্রিয়া। এখন রাজনৈতিকভাবে তারা পারেনি, এখন অর্থনৈতিকভাবে কীভাবে চাপে ফেলবে সেই প্রচেষ্টা।’

দেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার চক্রান্ত চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর কিছু মোড়ল আছে। যেখানে তাদের সমর্থন, সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘন না, আরেক জায়গায় যদি হয় সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ রকম দুমুখো, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাটাকে নসাৎ করার একটা চক্রান্ত।’ নির্বাচনে যাকে খুশি তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এটাই আমাদের স্লোগান। তারপরও আমি নৌকায় ভোট চেয়ে রাখলাম, কারণ এটা আমাকে চাইতেই হবে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধসংসদ নির্বাচন : যা করতে মানা মেয়র চেয়ারম্যানদের
পরবর্তী নিবন্ধপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তামিম ইকবালের সাক্ষাৎ