নির্বাচনের পালে হাওয়া

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে চট্টগ্রামজুড়ে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি, উৎসবের আমেজ

হাসান আকবর | মঙ্গলবার , ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ at ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ

মনোনয়নপত্র জমাদানের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পালে হাওয়া লেগেছে। নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনের ক্ষণগণনা নতুন গতি পেতে শুরু করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে উত্তাপ ও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া নির্বাচনযাত্রা গতকাল মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে চট্টগ্রামজুড়ে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি, সমর্থকদের মিছিলস্লোগান এবং নির্বাচনী আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়গুলো।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানামুখী জল্পনা কল্পনা এবং সংশয় বিরাজ করছে গত বেশ কয়েকমাস ধরে। সর্বস্তরের মানুষের সাধারণ প্রশ্ন নির্বাচন কি হবে! রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন চাওয়ানা চাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংশয় আরো প্রকট হয়ে উঠে। একাধিক আলোচিত খুনসহ বিভিন্ন ঘটনাও নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি করে। কিন্তু সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচনমুখী বক্তৃতা, গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা, দুজন উপদেষ্টার পদত্যাগ, রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রদানসহ বেশ কিছু ঘটনা নির্বাচন যে যথাসময়ে হতে যাচ্ছে তা বিশ্বাস করার লোকের পাল্লা ভারি হতে থাকে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর নির্বাচন নিয়ে সংশয় অনেকটা উবে গেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গতকাল মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে ভোটের মাঠে নতুন হাওয়া লাগে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে গতকাল ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের মধ্য দিয়ে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম চলবে। রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি হবে। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে এবং ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।

আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা শুরু হতে এখনো ঢের বাকি থাকলেও মনোনয়নপত্র জমাদানকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের বড় ধরণের প্রচারণা হয়ে গেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের বিশাল জমায়েত লক্ষ্য করা গেছে। একই সাথে প্রার্থী মনোনয়নের পক্ষে বিপক্ষে এবং কয়েকটি আসনে বড় দলের প্রার্থী পরিবর্তন নতুন করে আলোচনায় ঝড় তোলেছে। কোন কোন প্রার্থীকে নিয়েও সরগরম নির্বাচনী মাঠ। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্রই চায়ের কাপে ঝড় চলছে। প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু না করলেও উঠোন বৈঠক বা হাটে বাজারে মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ এবং ভোট প্রার্থনা নির্বাচনী আবহে নতুন ইমেজ তৈরি করেছে।

এবার চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭০ জন। চট্টগ্রামের মোট ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে ১২ হাজার ৫৯৫টি বুথে ভোটগ্রহন করা হবে।

মনোনয়ন জমার শেষ দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় রূপ নেয় এক ধরনের উৎসবস্থলে। প্রার্থীরা শোভাযাত্রা, স্লোগান ও ব্যানারফেস্টুন নিয়ে এসে মনোনয়নপত্র জমা দেন। নতুন প্রার্থী, তরুণ মুখ ও রাজনৈতিক সমীকরণে বদলের ইঙ্গিত ভোটের মাঠে এনেছে নতুন উদ্দীপনা।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা। এখন নজর মনোনয়ন যাচাই, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়া এবং শুরু হতে যাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণার দিকে। ভোটের রাজনীতিতে কারা এগিয়ে থাকবেন তা নিয়েও পক্ষে বিপক্ষে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে শহর বন্দর কিংবা গ্রামে গঞ্জে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধছয় আসনে বিএনপির ৯ ‘বিদ্রোহী’
পরবর্তী নিবন্ধপ্রার্থীরা কে কী বললেন