নির্বাচনী ট্রেন গণভবন অভিমুখে। অবশেষে বিশ্বের চতুর্থ মুসলিম অধ্যূষিত অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়ার রাইজিং–টাইগার বাংলাদেশে ‘ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোট’ হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও দেশী–বিদেশী পর্যবেক্ষকদের এ পর্যন্ত সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্যে জানা যায়– এবারই প্রথম বাংলাদেশের নির্বাচনে ৮শ সংস্থা ও ৫৫ হাজার দেশী–বিদেশী পর্যবেক্ষক– ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ৩শ আসনের ৪২হাজার ৭৬১ কেন্দ্রে চোখ রাখবে। এছাড়াও নির্ভুল–নিরাপদ স্ক্যানিংয়ের দায়িত্বে এক্টিভ থাকবে ‘থার্ড আই’। তথাকথিত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ভূয়া তথ্য, কেন্দ্র দখল, বোমাবাজি, সন্ত্রাস–নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ১৮ কোটি মানুষের ভূ–খণ্ড অনিরাপদ করে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। মনে রাখতে হবে– গণতন্ত্র এবং কর্তৃত্ববাদের মধ্যে বৈশ্বিক সংগ্রাম চলছে। এ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নতুন গণতন্ত্রের বিজয়ের ঢেউ ইউরোপ–পাড়ি দিয়ে এশিয়াার দিকে ধেয়ে আসছে।
বাংলাদেশে বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচনের আর মাত্র কদিন বাকী। এবারের ভোট! পুরোপুরি অন্য রকম আমেজ দেখা যাচ্ছে। সময়ের স্বল্পতার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের কেন্দ্র কমিটি গোছানো, ব্যানার–ফেস্টুন ছাপা বাদ দিয়ে স্যোসাল মিডিয়া এবং ডোর টু ডোর পৌঁছাতে নেমে পড়েছে। খাম–খেয়ালীর কারণে কোন–কোন প্রার্থী নির্বাচনী আচরণ বিধি সীমা অতিক্রম করার খবর পত্রপত্রিকায় দেখা যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের নানা সমীক্ষায় দেখা গেছে– এলাকাভিত্তিক ভোটকেন্দ্র দখল করার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ভোটের মাঠে বাংলাদেশের প্রবীণতম দল (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামীলীগ এর নীরব ২৫% শতাংশ প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ভোটার যেদিকে ঝুঁকবে তাদের পাল্লা ভারি হবে। ফেসবুক–ইনিস্ট্রোগ্রাম–টুইটার, এক্সসহ নানা স্যোসাল মিডিয়ার পর্দায় ভেসে ওঠা প্রতিদিনের নির্বাচনী তথ্য পর্যবেক্ষণে জানা যায়– বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ দীর্ঘদিন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবার তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তবুও অনেকে ভোট দিতে পারবে কিনা আশঙ্কা করেছেন। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নেয়া দুই প্রধান দলের শীর্ষ নেতারা জনগণকে বলে আসছেন– আপনারা পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভোট দিতে যাবেন।
ভোট দেওয়া নাগরিকের ব্যক্তিগত ও সাংবিধানিক অধিকার। গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই শক্তিশালী ও বৈধ শ্লোগান হলো– আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাঁকে দিব। ভোট দেওয়া শুধু একটি অধিকার নয়, এটি নাগরিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক বার্তা। এটি নিজের ভবিষ্যৎ গঠনে সরাসরি অংশ নেয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়। আপনি কেমন সরকার চান ভোটের মাধ্যমে তা প্রকাশ পাবে। ভোট না দিলে সিদ্ধান্ত অন্যরা নিবে– আপনার মতামত পরিসংখ্যানে হারিয়ে যাবে। ক্ষমতাবান ও সংগঠিত গোষ্ঠীর প্রভাব বেড়ে যাবে। গণতন্ত্র অন্ধকারে হারিয়ে যাবে; নেমে আসবে অমানিশার ঘন–কালো অন্ধকার।
লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক।












