নির্বাচনি সহিংসতায় জানুয়ারিতে ৪ জনের মৃত্যু, আহত ৫০৯

এমএসএফ প্রতিবেদন

| রবিবার , ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের খবরের মধ্যে জানুয়ারি মাসে মোট ৬৪টি নির্বাচনি সহিংসতার তথ্য দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। এসব সহিংসতায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে ৫০৯ জন। আর ডিসেম্বর মাসে সারাদেশে সাতটি সহিংসতায় একজনের প্রাণহানির পাশাপাশি ২৭ জন আহত হয়েছিলেন। খবর বিডিনিউজের।

জানুয়ারি মাসের শেষ দিনে গতকাল শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এমএসএফ এর মাসিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনি সহিংসতা ছিল এ মাসের অন্যতম ‘সবচেয়ে ভয়াবহ’ মানবাধিকার সংকট। এর বাইরে চলতি মাসে ২৪টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ২১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুষ্কৃতিকারীর হামলায় মারা গেছেন ছয়জন। আগের মাসে ১৬টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১২৪ জন আহত হয়েছিলেন। ওই মাসে দুস্কৃতিকারীর হামলায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৪ জনে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে এমএসএফ বলছে, এটি প্রমাণ করে যে, জানুয়ারি মাসে নির্বাচনি প্রক্রিয়া কার্যত প্রাণঘাতী সহিংসতার দিকে যাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক নজরুল ইসলাম নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত হয়েছেন। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ২ আসনের কটিয়াদি উপজেলার আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. কামাল উদ্দিন ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চনে আজাহর নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত হয়েছে।

কারা হেফাজতে মৃত্যু ১৫ জনের: এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে কারা হেফাজতে মোট ১৫ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, গত মাসে এ সংখ্যা ছিল ৯ জনে। জানুয়ারিতে মৃত্যুর মধ্যে ৪ জন কয়েদি ও ১১ জন হাজতি রয়েছেন। ১১ জন মৃত হাজতি বন্দির মধ্যে ৫ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ জন, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ জন এবং জামালপুর জেলা কারাগারে ১ জন কয়েদি মারা যান। এছাড়া হাজতির মধ্যে কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ জন, নরসিংদী জেলা কারাগারে, লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে, পাবনা জেলা কারাগারে, পটুয়াখালী জেলা কারাগারে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে, মেহেরপুর জেলা কারাগারে, নওগাঁ জেলা কারাগারে ও রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন করে বন্দি মারা গেছেন। তবে সব বন্দির মৃত্যু হয়েছে কারাগারের বাইরে হাসপাতালে। মেহেরপুর কারাগারে নয়ন নামের এক কয়েদিতে চোখ বেঁধে দফায় দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত কারারক্ষী মিশু, হযরত ও হাবিব নামের তিনজনের বিরুদ্ধে। এমএসএফ বলছে, কারাগারে বন্দিদের শারীরিক নির্যাতনের আইনি কোনো বৈধতা না থাকলেও নয়নকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছ্তেএমন অভিযোগ করেছেন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত একাধিক বন্দি।

বেড়েছে ‘গণপিটুনি’তে মৃত্যু : জানুয়ারিতে ২৯টি ‘গণপিটুনির’ ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে এমএসএফ বলছে, এসব ঘটনায় আহত ২১ জন মারা গেছেন, গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন ২৬ জন। গণপিটুনির শিকার ১৭ জনকে আহতাবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজন ছিনতাইয়ের অভিযোগে, ১০ জন চুরির অভিযোগে, দুজন খুনের অভিযোগে, একজনকে ডাকাতি, একজনকে পরকীয়া, চারজনকে বাকবিতণ্ডা, একজনকে মাদক ব্যবসা এবং একজনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে আটজনকে ডাকাতির অভিযোগে, তিনজনকে চুরির অভিযোগে, দুজনকে পরকীয়া, একজনকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে, তিনজনকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হওয়ার অভিযোগে এবং কটূক্তি, প্রতারণা, প্রেম এ ধরনের অপরাধজনিত কারণে ৯ জনকে ‘গণপিটুনি’ দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

অজানা পরিচয়ের লাশ মিলেছে ৫৭টি : এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৯ জন নারী, ৪৮ জন পুরুষসহ মোট ৫৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছেযাদের পরিচয় অজানা। আগের মাসে অচেনা পরিচয়ের ৪৮টি লাশ উদ্ধার করা হয় জানিয়ে এমএসএফ বলছে, অল্প কিছু ঘটনা ছাড়া সব কয়টি লাশের পরিচয় অজানাই থেকে যাচ্ছে। এসব লাশের বেশির ভাগই নদী বা ডোবায় ভাসমান, মহাসড়ক বা সড়কের পাশে, সেতুর নিচে, রেল লাইনের পাশে, ফসলি জমিতে ও পরিত্যক্ত স্থানে পাওয়া যায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৫ জনসভায় ভাষণ দেবেন জামায়াত আমীর
পরবর্তী নিবন্ধগাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২৬ ফিলিস্তিনি নিহত