নারী উদ্যোক্তা বেবী হাসান বলেন, ১৯৮৩ সালে একটি পোশাক কারখানায় কোয়ালিটি কন্ট্রোলার (কিউসি) হিসেবে যোগ দিই। তারপর ধাপে ধাপে ফ্লোরের সুপারভাইজার, ইনচার্জ এবং পরে প্রোডাকশন ম্যানেজার হই। আমার চাকরি জীবনটা ছিল অনেক কষ্টের। সকাল ৮টায় ফ্যাক্টরিতে গিয়ে টানা ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হতো।
তিনি বলেন, ৮ বছর কারখানায় চাকরি করে এক পর্যায়ে চাকরি ছেড়ে ১৯৯১ সালে একটি বায়িং হাউজে জয়েন করি। বিদেশি ক্রেতাদের সাথে ডিলিং থেকে শুরু থেকে করে প্রোডাকশনের সবকিছু দেখতে হতো। এক সময় ভেতর থেকে তাড়না অনুভব করলাম, নিজের কিছু একটা দরকার। সেই তাড়না থেকে ২০০৫ সালে বিএস অ্যাপারেল নামে একটি বায়িং হাউজ গড়ে তুলি।
বেবী হাসান বলেন, প্রথম দিকে পার্টনারশিপে করলেও পরে এককভাবে কাজ শুরু করি। শুরুর সময় আমার কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিল ৫-৭ জন। এখন প্রতিষ্ঠানে ৬৫ জন চাকরি করে। এসব করতে পেরেছি নিজের মেধা ও পরিশ্রমের বিনিময়ে। আমাদের দেশে একজন নারীকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী হলেও সমাজ এখনো পুরষশাসিত। বিশ্বের প্রতিটি আধুনিক সমাজের পেছনে নারীদের অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, এত কিছুর পরে সকল বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নারীরা কিন্তু ঠিকই এগিয়ে যাচ্ছে। এটাই উইম্যান স্পিরিট। একটা কথা না বললেই নয়, আমি চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের সাথে যুক্ত হই ২০০০ সালের দিকে। উইম্যান চেম্বারের মনোয়ারা হাকিম আলী নারী উদ্যোক্তাদের ভাগ্য বদলে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। উনার সহায়তা ও উৎসাহ-অনুপ্রেরণায় আমার এতদূর আসা।









