নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলুন যাতে সমাজকে আলোকিত করা যায়

বিওয়াইএলসির গ্র্যাজুয়েশন সিরোমনি অনুষ্ঠানে এম এ মালেক

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, আমরা সবসময় বলি উই ওয়ান্ট টু চেঞ্জ দ্যা ওয়ার্ল্ড, কিন্তু আমরা নিজেকে চেঞ্জ করি না। দ্যাট ইজ দ্যা প্রবলেম। এখন আমি যদি একটা কথা বলি সেটি যদি আমি নিজে না করি, আপনারা কেউ করবেন? কেউ করবেন না। সুতরাং পরিবর্তন আগে নিজেকে দিয়ে করতে হবে। গতকাল বিকেলে নগরীর হোটেল পেনিনসুলায় বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের (বিওয়াইএলসি) সিগনেচার লিডারশিপ প্রোগ্রামের গ্র্যাজুয়েশন সিরোমনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম এমনই এক শহর, যেখানে পাহাড় ও সমুদ্র একসাথে কথা বলে। এ শহর আমাদের শিখিয়েছে, ঢেউ যতই উঁচু হোক, নোঙর ফেলতে জানতে হবে। এ শহর আমাদের শিখিয়েছে, পাহাড় যতই দুর্গম হোক, সাহস নিয়ে পথ তৈরি করতে হবে। বিওয়াইএলসি’র পথ চলা এই দর্শনকে স্মরণ করিয়ে দেয়: অটল থাকা, থেমে না যাওয়া।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা গল্প আছে। এই গল্পের শুরুরটা আর বদলানো যাবে না। কিন্তু পরের অংশটা আমরা নিজেরাই লিখতে পারি। লিখতে পারি স্বপ্ন দিয়ে, সাহস দিয়ে। ইংরেজিতে একটা কথা আছে: দি ফিউচার বিলংস টু দোজ হু বিলিভ ইন দি বিউটি অব দ্যায়ার ড্রিমস। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি একটা কথা বলেছিলেন, সেটা আমি সবসময় সব জায়গায় বলি। আজকে আবারও বলছি। সেটি হচ্ছেআমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে। সে স্বপ্নটা কিন্তু ঘুমের মধ্যে নয়, জেগে থেকে। আমরা যদি জেগে থেকে সেই স্বপ্নটা দেখি, তাহলে সেই স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়িত করতে পারবো। উনার আরও অনেক সুন্দর সুন্দর কথা আছে। আরেকটা কথা উনার আমি না বলে পারছি না, সেটা হচ্ছে, উনি বলছেন, সূর্য নিজেকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে তার নির্যাস থেকে যে আলোটা দিচ্ছে, সেটা দিয়ে এই পৃথিবী এবং এই ইউনিভার্স আলোকিত হচ্ছে। অর্থাৎ শিক্ষা দিয়ে তোমরা তোমাদের নিজেকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে সেইভাবে গড়ে তোলো, যাতে তোমরা সমাজকে আলোকিত করতে পারো। তাহলে কিন্তু তোমরা জীবনে সফল হতে পারবে।

এম এ মালেক আরো বলেন, হুমায়ুন আহমেদের একটি কথা আমার সবসময় খুব ভালো লাগে। আমি সেটি মনে রাখার চেষ্টা করি। তা হলোসাধারণ হওয়াটা অসাধারণ ব্যাপার, সকলে সাধারণ হতে পারে না। আসলেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে চলতে যে আনন্দ, সেটা অসাধারণ মানুষের সঙ্গে চলতে সেই আনন্দ পাওয়া যায় না। এজন্য সাধারণ হয়ে থাকতেই আমি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ইমপসিবল বলে কোনো কথা নেই। বিকজ এভরিথিং ইজ পসিবল ইফ ইউ ট্রাই। এই ইমপসিবলকে যদি একটু ভাগ করে নেই, এটা হচ্ছে, আই অ্যাম পসিবল। সুতরাং ইমপসিবল শব্দের মধ্যেই তো পসিবল শব্দটা লেখা আছে। হোয়াই নট লেট আস ট্রাই টু ব্রেক দি ইমপসিবল অব দি ওয়ার্ল্ড? এখানে যত ইমপসিবল আছে, সবগুলোকে পসিবল করতে হবে। সেই পসিবল শব্দটাকে আমাদেরকে নিজের মনের মধ্যে নিতে হবে এবং সেইজন্য চেষ্টা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিওয়াইএলসি’র এঙেকিউটিভ চেয়ারপার্সন ইজাজ আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়ে বলেন, নেতৃত্ব মানে কর্তৃত্ব নয়। নেতৃত্ব মানে কাজকে এগিয়ে নেওয়া এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে ভিত্তি তৈরি এবং একটি সুন্দর ও অগ্রসর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রয়াসে বিওয়াইএলসি গত ১৭ বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিল্ডিং ব্রিজেস থ্রু লিডারশিপ ট্রেনিং জুনিয়র (বিবিএলটিজে) ৫০ গ্র্যাজুয়েট মাহমুদা মুস্তারি চৌধুরী ও বিল্ডিং ব্রিজেস থ্রু লিডারশিপ ট্রেনিং (বিবিএলটি) গ্র্যাজুয়েট মো. তৌসিফ আনাম ও কেতি তঞ্চঙ্গ্যা। অনুষ্ঠানে পাঁচ ব্যাচে ২৬৫ জন গ্র্যাজুয়েট এবং ২২ জন লিডারশিপ ফ্যাসিলিটেটর এর হাতে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বিওয়াইএলসি চট্টগ্রাম রিজিওনাল ম্যানাজার মো. আলী আশরাফ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিএনপি এমন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে যেখানে কোনো মানুষ গুম হবে না
পরবর্তী নিবন্ধভারতের পার্লামেন্টে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব